তারাতলার ধ্বংসস্তূপে আটকে আরও প্রাণ? অত্যাধুনিক ক্যামেরায় তল্লাশি সেনার, ধৃত গুদাম মালিক!

তারাতলার ধ্বংসস্তূপে আটকে আরও প্রাণ? অত্যাধুনিক ক্যামেরায় তল্লাশি সেনার, ধৃত গুদাম মালিক!

তারাতলার ব্রেসব্রিজ সংলগ্ন নির্মীয়মাণ গুদাম বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। বুধবার দুপুরে আচমকা বিশাল লোহার কাঠামো ভেঙে পড়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহেরাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এর আগে সুপারভাইজার-সহ আরও কয়েকজনকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বেশ কয়েকজন শ্রমিকের আটকে থাকার আশঙ্কায় যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে সেনাবাহিনী, এনডিআরএফ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন শ্রমিককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

উদ্ধারকার্যে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার

ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে পড়া জীবিতদের সন্ধানে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে সেনা। কংক্রিট ও লোহার কাঠামোর ফাঁকফোকর দিয়ে বিশেষ ক্যামেরা ঢুকিয়ে ল্যাপটপের মাধ্যমে ভিতরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। উদ্ধারকারীদের দাবি, ধ্বংসস্তূপের ভিতর থেকে মাঝেমধ্যেই শব্দ শোনা যাচ্ছে। তাই আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের আশা এখনই ছাড়ছেন না তাঁরা। জীবিতদের অবস্থান চিহ্নিত করে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ভারী যন্ত্রপাতি ও গ্যাস কাটার দিয়ে কাঠামো সরানোর কাজ চলছে।

বিপর্যয়ের কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের নেপথ্যে নির্মাণকাজে চূড়ান্ত গাফিলতি এবং দুর্নীতির বড় ভূমিকা রয়েছে। নির্মাণের ত্রুটিপূর্ণ নকশা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই বিপর্যয়ের প্রভাব দরিদ্র ও পরিযায়ী শ্রমিকদের পরিবারে অত্যন্ত ভয়াবহ। মৃতদের মধ্যে ১৯ বছরের এক তরুণ পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের নিরাপত্তার অভাবকে ফের প্রকাশ্যে এনেছে। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারগুলির মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *