বাইপাসের ধারে জলাজমি ভরাট নিয়ে সক্রিয় চক্র, বিধানসভায় তদন্তের দাবিতে সরব কুণাল!

বাইপাসের ধারে জলাজমি ভরাট নিয়ে সক্রিয় চক্র, বিধানসভায় তদন্তের দাবিতে সরব কুণাল!

অষ্টাদশ বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী রইল রাজ্য রাজনীতি। শাসক দলের বিধায়ক হয়েও সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে বাইপাসের ধারে জলাজমি ও কৃষিজমি বোজানোর অভিযোগে সরব হলেন কালীঘাট-পন্থী নেতা কুণাল ঘোষ। বুধবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখার সময় তিনি জানান, এই বেআইনি কাজের পিছনে একটি বড় চক্র কাজ করছে। এই জলাজমি ভরাট অবিলম্বে বন্ধ করতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

শাসক দলের অন্দরেই অস্বস্তি ও কুণালের জবাব

বিধানসভায় কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের পরই শাসক দলের আসন থেকে নানা গুঞ্জন ও মন্তব্য উড়ে আসে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই জলাজমি বুজিয়ে বেআইনি নির্মাণের কারণে নানা মহলে রাজ্যের শাসক দলকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। তবে নিজ দলের একাংশের এমন প্রতিক্রিয়ার জবাবে কুণাল ঘোষ পাল্টা মন্তব্য করেন যে, প্রয়োজনে তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধেও একাধিক তদন্ত চাইতে পারেন, তাতে কোনো সমস্যা হবে না। এ ছাড়া এদিন হোমিওপ্যাথি কলেজের উন্নয়ন নিয়েও বিধানসভায় কথা বলেন তিনি।

জলাজমি ভরাট বিতর্কের পটভূমি ও প্রভাব

শহরের বুকে কৃষিজমি ও জলাজমি বুজিয়ে নরম ভিত্তির ওপর বেআইনি ফ্ল্যাট নির্মাণের কারণে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি ভবিষ্যতে বড়সড় বিপর্যয়ের ঝুঁকিও বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই চক্রের কারণে কলকাতা হাইকোর্টেও একাধিকবার প্রশ্ন উঠেছে। গত বছর ডিসেম্বরেই বিচারপতি অমৃতা সিনহা এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে বেআইনিভাবে নির্মিত প্লটগুলির তালিকা ওয়েবাসাইটে প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিধানসভায় খোদ শাসক দলের বিধায়কের মুখে এই প্রসঙ্গ পুনরায় উঠে আসায় বেআইনি নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে যেমন প্রশাসনিক চাপ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো, তেমনই রাজ্য রাজনীতির অন্দরেও নতুন করে সমীকরণ বদলের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *