‘তদন্ত একচুলও এগোয়নি!’ আরজি কর কাণ্ডে সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা হাইকোর্টের, সরানো হলো IO-কে

কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক-পড়ুয়াকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। কিন্তু সেই তদন্তে সিবিআইয়ের (CBI) ঢিলেঢালা মনোভাবে এবার চরম বিরক্তি প্রকাশ করল উচ্চ আদালত। তদন্তে বিন্দুমাত্র অগ্রগতি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সিট (SIT)-এর তদন্তকারী অফিসার বা আইও (IO)-কে অবিলম্বে সরানোর নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
‘সিবিআই ডিরেক্টর কি নির্দেশ বুঝতে পারছেন না?’
এদিন আদালতে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেয় সিবিআই। সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের কড়া ভর্ৎসনা, “সিবিআই ডিরেক্টর কি এখনও বুঝতে পারছেন না যে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে? নাকি উনি ভেবেছেন, পুরনো তদন্তই শুধু খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে!” বিচারপতিরা স্পষ্ট জানান, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে নিম্ন আদালতে এই মামলার চার্জশিট জমা পড়ার পর থেকে তদন্ত একচুলও এগোয়নি।
আদালতের জোড়া নির্দেশ:
- আদালতের নির্দেশে গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম বা সিটের (SIT) বর্তমান তদন্তকারী অফিসারকে (IO) অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে সরাতে হবে।
- আগামী ৬ অগস্ট সিবিআইকে তদন্তের নতুন অগ্রগতির রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে।
প্রেক্ষাপট:
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের সেমিনার রুম থেকে ওই তরুণী চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। কলকাতা পুলিশের হাত ঘুরে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের কাছে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা শোনায় শিয়ালদহ আদালত। কিন্তু সিবিআইয়ের প্রথম দফার তদন্তে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ তুলে পুনরায় তদন্তের দাবিতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় নির্যাতিতার পরিবার। সেই আবেদনের ভিত্তিতেই সম্প্রতি সিট গঠন করে নতুন করে তদন্তের কড়া নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট।