সাধারণ বাসে চড়ে আমজনতার মন জয় করলেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী বিজয়!

চেন্নাইয়ে তিনশোটি নতুন সরকারি বাসের শুভসূচনা করে ফের এক অভিনব নজির গড়লেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর ওরফে থলপতি বিজয়। উদ্বোধনের পর সমস্ত নিরাপত্তাবলয় সরিয়ে সাধারণ মানুষের মতোই একটি সরকারি বাসে উঠে বসেন তিনি। বাসের আসনে বসে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি চালক ও কন্ডাক্টরের সঙ্গেও কুশল বিনিময় ও ছবি তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরনে সাদা শার্ট ও কালো প্যান্ট পরা সুপারস্টার মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘জয় রাইড’-এর ভিডিও বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল ভাইরাল হয়েছে, যা দেখে তাঁর সারল্যে মুগ্ধ হয়েছেন তামিলভূমের সাধারণ মানুষ।
জনমুখী নীতি ও প্রশাসনিক তৎপরতা
গত ১০ মে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেওয়ার পর থেকেই একের পর এক জনমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছেন থলপতি বিজয়। রূপোলি পর্দার তারকা ইমেজ ঝেড়ে ফেলে নিজেকে প্রকৃত অর্থে ‘জন নায়াগন’ বা জনগণের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর এই জনসংযোগের প্রধান কারণ। প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে তিনি ইতিমধ্যেই গ্যাস সংকট দূরীকরণ, নারী ক্ষমতায়ন, দুর্নীতি বিরোধী কঠোর নীতি এবং সরকারি হাসপাতালে জন্ম নেওয়া নবজাতকদের সোনার আংটি উপহার দেওয়ার মতো একাধিক ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই রাজ্যের গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণে ৩০০টি নতুন বাস চালু করা এবং নিজে তাতে চড়ে সাধারণের খোঁজ নেওয়াকে তাঁর সুপরিকল্পিত প্রশাসনিক তৎপরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দ্রাবিড় রাজনীতিতে নতুন যুগের সূচনা ও দূরগামী প্রভাব
অতীতের তামিল রাজনীতিতে শিবাজি গণেশন, কমল হাসান কিংবা রজনীকান্তের মতো মেগাস্টাররা রাজনৈতিক ময়দানে নেমেও প্রথম দফায় এমন ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারেননি। অতীতে কেবল এমজিআর, এনটিআর কিংবা জয়ললিতাই এই ধরনের ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় নিজের দল ‘তামিলাগা ভেতরি কাজাগম’ গঠন করে ২০২৬-এর নির্বাচনী ময়দানে বিজয়ের এই একক জয় দ্রাবিড় রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি মিশে যাওয়ার প্রবণতা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাবিত করবে। তাঁর এই ‘আমজনতা’ সুলভ আচরণ একদিকে যেমন প্রশাসনের প্রতি জনগণের আস্থা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে, অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। একই সঙ্গে তাঁর এই সাফল্য তামিল চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির মধ্যেও এক বিশাল গর্ব ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।