শতাব্দীর ভয়াবহতম জোড়া ভূমিকম্পে লণ্ডভণ্ড ভেনেজুয়েলা! মৃত ১৬৪, ধ্বংসস্তূপে আটকে বহু

কারাকাস: এক শতাব্দীর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সাক্ষী হলো দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। বুধবার সন্ধ্যায় পর পর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কার্যত মৃত্যুমিছিলে পরিণত হয়েছে গোটা দেশ। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.২ এবং ৭.৫। জোড়া ধাক্কায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে অসংখ্য বহুতল ভবন।
মৃতের সংখ্যা ও উদ্ধারকাজ:
দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, এই মহাবিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন প্রায় ৯৭১ জন। তবে উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
- বিপর্যয়গ্রস্ত এলাকা: সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ‘লা গুয়াইরা’ (La Guaira) প্রদেশ। এটিকে ইতিমধ্যেই ‘বিপর্যয়গ্রস্ত এলাকা’ (Disaster Zone) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
- ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুসহ বহু মানুষকে জীবন্ত উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
আন্তর্জাতিক মহলের সাহায্যের হাত:
এই চরম সংকটে ভেনেজুয়েলার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে আন্তর্জাতিক মহল:
- জার্মানি: দুর্গতদের সাহায্যার্থে নিজেদের ‘A400M’ সামরিক পরিবহন বিমান পাঠানোর জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস। ভেনেজুয়েলা চাইলেই দ্রুত উদ্ধারকারী দল ও সরঞ্জাম পাঠানো হবে।
- ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU): উদ্ধারকাজের সুবিধার্থে ইইউ তাদের প্রধান স্যাটেলাইট-ভিত্তিক আর্থ-মনিটরিং সিস্টেম ‘কোপার্নিকাস প্রোগ্রাম’ (Copernicus Programme) সক্রিয় করেছে। এর মাধ্যমে উপগ্রহ চিত্র সংগ্রহ করে মাটিতে থাকা উদ্ধারকারীদের পাঠানো হচ্ছে।
রাষ্ট্রপুঞ্জের জরুরি বার্তা:
এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝে ভেনেজুয়েলা সরকারের কাছে একটি জরুরি আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ (UN)। সাধারণ মানুষের কাছে যাতে দ্রুত ও সঠিক তথ্য পৌঁছতে পারে, তার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর থেকে সমস্ত সরকারি নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেওয়ার কড়া অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি এত বেশি কেন?
অস্ট্রেলিয়ার সিসমোলজি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান বিজ্ঞানী অ্যাডাম পাসকালের মতে, পর পর দুটি বড় মাপের কম্পন বা ‘ডাবল ইভেন্ট’ খুব একটা দেখা যায় না। প্রথম কম্পনে যে বাড়িগুলি দুর্বল হয়ে পড়েছিল, ঠিক তার পরের কম্পনটি সেগুলিকে এক্কেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। ফলে ধ্বংসলীলার মাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ১৯৬৭ সালে কারাকাসের কাছে হওয়া ঐতিহাসিক ভূমিকম্পের চেয়েও এবারের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বড় হতে চলেছে। ধ্বংসস্তূপের মাঝে এখন শুধুই স্বজনহারাদের হাহাকার আর বেঁচে থাকার মরিয়া লড়াই।