‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বনাম ‘অন্নপূর্ণা’! বিধানসভায় শ্বেতপত্র প্রকাশ ও ৬০ হাজার কোটির খতিয়ান দিলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন

কলকাতা: বিধানসভায় বাজেট জবাবি ভাষণে রাজ্যের বিপুল ঋণের বোঝা, পূর্বতন সরকারের দুর্নীতি এবং আগামী দিনের রূপরেখা নিয়ে সরব হলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানিয়ে রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নে শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষকেই একজোট হয়ে কাজ করার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
৬০ হাজার কোটির তহবিল ও শ্বেতপত্র প্রকাশ:
প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে নতুন সরকারকে কাজ শুরু করতে হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তবে তিনি আশ্বস্ত করেন, ইতিমধ্যেই কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা রাজ্যে আনা সম্ভব হয়েছে। এর জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি পূর্বতন সরকারের আমলের আর্থিক দুর্নীতির পর্দাফাঁস করতে কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি। তিনি জানান, প্রতিটি দফতরের আর্থিক লেনদেন ক্যাগ (CAG)-এর মাধ্যমে অডিট করে খুব শীঘ্রই একটি ‘শ্বেতপত্র’ (White Paper) প্রকাশ করা হবে।
‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘অন্নপূর্ণা যোজনার’ ফারাক:
পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ এবং বর্তমান সরকারের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র মধ্যে একটি বড় দার্শনিক পার্থক্য তুলে ধরেন স্বপন দাশগুপ্ত। তাঁর কথায়, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ছিল সর্বজনীন, যেখানে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলেই টাকা পেতেন। কিন্তু আমাদের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ তৈরি হয়েছে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে, যাতে সরকারি সাহায্য শুধুমাত্র প্রকৃত অভাবী ও দরিদ্রদের কাছেই পৌঁছায়।”
সরকারি কর্মীদের ডিএ (DA) নিয়ে আশ্বাস:
সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ প্রসঙ্গে পূর্বতন সরকারকে নিশানা করে তিনি বলেন, আগে মাত্র ৪ শতাংশ ডিএ দিয়ে কর্মীদের মনে ক্ষোভ তৈরি করা হয়েছিল। নতুন সরকার সেই ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করছে। আগামী মার্চ মাসে পূর্ণাঙ্গ বাজেটে কর্মচারীদের বেতন কাঠামোর বিষয়টি অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে তিনি বড় আশ্বাস দিয়েছেন।
নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোয় একগুচ্ছ নতুন ঘোষণা:
আগামী ৮ মাসের জন্য সুনির্দিষ্ট দিশা দেখাতে একঝাঁক নতুন প্রকল্প ও প্রশাসনিক সংস্কারের কথা ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী—
- শিক্ষা ও নারী নিরাপত্তা: নারী নিরাপত্তার স্বার্থে সন্দেশখালিতে একটি স্বতন্ত্র ‘মহিলা থানা’ গড়ে তোলা হবে। এছাড়া হেমতাবাদে নতুন ডিগ্রি কলেজ এবং কালিয়াগঞ্জে মহিলাদের জন্য বিশেষ কলেজ নির্মাণ করা হবে।
- বিপর্যয় মোকাবিলা: রাজ্যে একটি অত্যাধুনিক বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী গঠন করা হবে, যাদের পাহাড়, সুন্দরবন এবং রাজ্যের অন্যান্য অংশে মোতায়েন করা হবে।
- আরজি করের পুনরাবৃত্তি রোধ: তিনি স্পষ্ট জানান, সরকার এমন একটি নিরাপদ ব্যবস্থা গড়ে তুলছে, যাতে বাংলায় আর কখনও ‘আরজি কর’-এর মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
পুজোর আগেই নতুন পলিসি ও সম্প্রীতির বার্তা:
অর্থমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন, দুর্গাপুজোর আগেই রাজ্যের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে স্টার্ট আপ পলিসি, গ্লোবাল কেপাবিলিটি পলিসি, স্পোর্টস পলিসি এবং একটি সুনির্দিষ্ট ‘এআই (AI) মিশন’ আনা হবে। বক্তব্যের শেষে হিন্দু-মুসলিম ভেদাভেদ এবং বিভাজনের রাজনীতি ভুলে রাজ্যের বৃহত্তর স্বার্থে সকলকে এক হওয়ার ডাক দেন তিনি।