বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই! তারাতলার ধ্বংসস্তূপে তলিয়ে গেল কাটোয়ার রোহিতের জীবন

বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই! তারাতলার ধ্বংসস্তূপে তলিয়ে গেল কাটোয়ার রোহিতের জীবন

কাটোয়া: অভাবের সংসারে আলো জ্বালাতে চেয়েছিলেন বছর কুড়ির তরুণ রোহিত চৌধুরী। স্বপ্ন ছিল, কাজ শিখে টাকা জমিয়ে পাড়ি দেবেন বিদেশে। কিন্তু সেই স্বপ্ন চিরতরে চাপা পড়ে গেল কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ভয়াবহ ধ্বংসস্তূপে। বুধবারের সেই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে বৃহস্পতিবার যখন রোহিতের নিথর দেহ কাটোয়ার গাজীপুর গ্রামে পৌঁছাল, তখন কান্নায় ভেঙে পড়ল গোটা গ্রাম।

সংসারের হাল ধরার পণ:

পক্ষাঘাতগ্রস্ত বাবা বেনারসি চৌধুরী শয্যাশায়ী, আর মা নীলমদেবী সবজি বিক্রি করে সংসার চালান। পরিবারের আর্থিক দুর্দশা ঘোচাতে উচ্চমাধ্যমিকের পর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন সরিয়ে রেখে রোহিত বেছে নিয়েছিলেন কায়িক পরিশ্রমের পথ। প্রায় ছয় মাস আগে মামার সঙ্গে কাজের খোঁজে কলকাতায় এসেছিলেন তিনি। লক্ষ্য ছিল, কিছু টাকা জমিয়ে আবার আইটিআই-তে ভর্তি হওয়া এবং পরে বিদেশে মোটা বেতনের চাকরি করা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সব শেষ হয়ে গেল।

শেষ প্রতিশ্রুতি আর রাখা হলো না:

মঙ্গলবার বিকেলে শেষবার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছিল রোহিতের। আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, “মা, চিন্তা কোরো না। আমি ভালো আছি। ৫ জুলাই কাকার বিয়েতে বরযাত্রী হয়ে বাড়ি ফিরব।” সেই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তা রাখার সুযোগ আর পেল না ২০ বছরের এই তরুণ। ছেলের মৃত্যুসংবাদ যেন আকাশ ভেঙে দিয়েছে নীলমদেবীর মাথায়। শোকস্তব্ধ মা বিলাপ করে বলছেন, “ছেলেটা অভাবের সংসারে আলো জ্বালাতে চেয়েছিল, কে জানত এভাবে সব নিভে যাবে!”

অনিশ্চয়তার মুখে আরও এক পরিবার:

শুধু রোহিত নয়, তারাতলার এই ঘটনায় ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে রামপ্রসাদ চৌধুরী নামের আরও এক তরুণের পরিবার। ২২ বছর বয়সী রামপ্রসাদের কোমর ভেঙেছে, মাথায় গুরুতর আঘাত এবং ডান পা মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি এসএসকেএম হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী রামপ্রসাদকে হারিয়ে দিশেহারা তাঁর মা যামিনী দেবী।

স্থানীয়দের দাবি, এই দুর্ঘটনার দায় নিতে হবে গুদাম মালিক এবং নির্মাণ সংস্থাকে। শুধু ক্ষতিপূরণ নয়, এই মর্মান্তিক ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রশ্ন, কতগুলো প্রাণের বিনিময়ে মিলবে জীবনের সুরক্ষা?

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *