ত্রুটিযুক্ত নকশায় মেয়রের সই! শুভেন্দুর অভিযোগ উড়িয়ে সাফাই ফিরহাদের

তারাতলায় গোডাউন ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই বিপর্যয়ের কারণ হিসেবে ত্রুটিযুক্ত বিল্ডিং প্ল্যানকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি একটি কাগজ দেখিয়ে দাবি করেন, ওই বেআইনি ও ত্রুটিযুক্ত নকশায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের স্বাক্ষর রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক অভিযোগের পরই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে নিজের স্বপক্ষে জোরালো যুক্তি দিয়েছেন প্রাক্তন মেয়র।
নকশা অনুমোদনে দায় কার
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফিরহাদ হাকিমের স্পষ্ট দাবি, কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী কোনও ইমারতের নকশা বা বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন করার সরাসরি আইনি এক্তিয়ার মেয়রের থাকে না। তিনি জানান, বিল্ডিং প্ল্যান যাচাইয়ের কাজটি মূলত পুরসভার বিল্ডিং ডিপার্টমেন্ট এবং মিউনিসিপ্যাল বিল্ডিং কমিটির (এমবিসি) প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা করে থাকেন। তিনি নিজে ইঞ্জিনিয়ার না হওয়ায় নকশার প্রযুক্তিগত বৈধতা যাচাইয়ের সুযোগ তাঁর নেই। নিয়ম অনুযায়ী কমিশনারের হাত ঘুরে রুটিন ফাইল হিসেবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা মেয়রের কাছে আসতে পারে। তাই ফাইলে স্বাক্ষর থাকলেও তা কোনওভাবেই নকশার ত্রুটির দায়ভার মেয়রের ওপর চাপায় না বলে তিনি সাফ জানিয়েছেন।
কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং পালটা প্রশংসা
ভয়াবহ এই বিপর্যয়ের নেপথ্যে যাঁদের গাফিলতি প্রমাণিত হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। দোষীদের কারাবাসের পাশাপাশি রাজ্য সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্মাণ দুর্নীতির ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে নবান্নের তরফে ইতিমধ্যেই ১১ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজনৈতিক এই প্রবল চাপানউতোরের মাঝেই বর্তমান রাজ্য সরকারের তৎপরতার প্রশংসা শোনা গিয়েছে ফিরহাদের গলায়। দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। নিজের বিধানসভা এলাকা তারাতলায় দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে তিনি আহতদের দেখতে সরাসরি এসএসকেএম হাসপাতালে যান।