রাস্তা খুঁড়ে বাধা দিয়েছিল তৃণমূল, সেই বাড়িতেই বঙ্কিম-স্মরণে বন্দে মাতরম মিউজিয়ামের ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!

সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৮৯তম জন্মজয়ন্তীতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী রইল কলকাতা। গত বছর যে কলেজ স্ট্রিটের বাসভবনে ঢুকতে বাধা পেয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সেই বাড়িতেই সগৌরবে বঙ্কিম-স্মরণ করলেন তিনি। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এবং কলকাতা পুরসভার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাজ্যে একটি জাতীয় মানের ‘বন্দে মাতরম মিউজিয়াম’ গড়ার বড় ঘোষণাও করেন তিনি।
তোষণের রাজনীতির অবসান ও নতুন মিউজিয়াম
‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তির আবহে এই অনুষ্ঠান থেকে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, গত বছর এই বিশেষ দিনে তাঁকে বাধা দিতে বাড়ির সামনের রাস্তা পর্যন্ত খুঁড়ে দেওয়া হয়েছিল। বিগত সরকারকে ‘তোষণের সরকার’ আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, বর্তমানে রাজ্যে একটি রাষ্ট্রবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দুর্নীতির প্রশ্নে তৃণমূলকে বিদ্ধ করে তিনি জানান, সাহিত্য সম্রাটের পবিত্র বাসভবনে দুর্নীতিগ্রস্তদের নিয়ে আলোচনা করা নিষ্প্রয়োজন। প্রস্তাবিত মিউজিয়ামটির জন্য ইতিমধ্যেই বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, যা রাজ্যের সাংস্কৃতিক ও জাতীয়তাবাদী ঐতিহ্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
বঙ্কিম-স্মরণে নতুন অধ্যায়
এই প্রথমবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে কলেজ স্ট্রিটের এই ঐতিহাসিক বাড়িতে এমন মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হল। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বর্তমান সরকার একদিকে যেমন রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করার বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে পূর্বতন সরকারের আচরণের কড়া জবাবও প্রতিষ্ঠা করছে। প্রস্তাবিত জাতীয় মানের মিউজিয়ামটি বাস্তবায়িত হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশপ্রেম ও সাহিত্যের এক অনন্য পীঠস্থান হয়ে উঠবে এবং বাংলার পর্যটন ও সংস্কৃতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।