লাল গাড়িতে যুগলের বীভৎস দেহ! রহস্যময় মৃত্যুতে চাঞ্চল্য মধ্যপ্রদেশে

মধ্যপ্রদেশ: নির্জন রাস্তার ধারে দাঁড় করানো লাল রঙের গাড়ি। তার ভেতরেই তরুণ-তরুণীর নিথর দেহ। যুবকের মাথায় গুলির ক্ষত, আর তরুণীর গলার নলি কাটা! মধ্যপ্রদেশের অশোকনগরে এই নৃশংস ও রহস্যময় ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতদের নাম ঋত্বিক সোনি (২৬) এবং মুসকান জৈন (২৪)।
ঘটনাস্থলের চাঞ্চল্যকর সূত্র:
বৃহস্পতিবার ভোররাত ৩টে নাগাদ মাহানা গ্রামের কাছে ইশাগড় রোডের পাশ থেকে দেহ দুটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো খুনের পরিকল্পনার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে:
- গাড়ির ভেতর: একটি পিস্তল, রক্তমাখা কুড়ুল, একটি করাত, বিষের প্যাকেট এবং একটি চিরকূট।
- গাড়ির বাইরে: ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০ ফুট দূরে তিনটি মোবাইল ফোন, তিনটি টুপি এবং একটি লাইটার পড়েছিল। গাড়ির পেছনের সিটটিও ছিল পোড়া।
পুলিশ কী বলছে?
অশোকনগরের পুলিশ সুপার রাজীব মিশ্র জানান, প্রাথমিক তদন্তে চিরকূট থেকে মনে হচ্ছে, ঋত্বিক প্রথমে মুসকানকে খুন করে পরে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরিবারের তোলা খুনের অভিযোগ উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। ঘটনার তদন্তে ছয় সদস্যের বিশেষ দল (SIT) গঠন করা হয়েছে এবং ফরেন্সিক টিম অকুস্থল পরীক্ষা করেছে।
পরিবারের দাবি:
মৃত ঋত্বিকের বাবার অভিযোগ, “নিছক আত্মহত্যা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত খুন। যে মেয়েটি আমার ছেলের ভালো বন্ধু ছিল, তাকে মারতে কেন ছেলে কুড়ুল, করাত, গুলি—এতগুলো জিনিস ব্যবহার করবে? ওদের মধ্যে কোনো ঝগড়াই ছিল না। কেউ বা কারা ওদের খুন করে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়েছে।”
জানা গেছে, দুজনে আগে ইন্দোরের একটি সংস্থায় কাজ করতেন। মুসকানের পরিবার জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় মুসকান বাড়ি থেকে বেরোনোর পর থেকেই তাঁর ফোন বন্ধ ছিল। এদিকে, নিখোঁজ ডায়েরি নিতে পুলিশ গড়িমসি করেছিল বলেও অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজের দিকে তাকিয়ে তদন্তকারীরা।