দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ, সেশেলস সফরে বিশ্বের দীর্ঘজীবী প্রাণীর মুখোমুখি মোদী!

তিন দিনের বিশেষ রাষ্ট্রীয় সফরে দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামী ২৭ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত এই সফরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক কর্মসূচি রয়েছে। তবে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তৈরি করেছে এক অনন্য প্রতীকী কর্মসূচি। সেশেলসে পৌঁছেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী দেখা করবেন বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘজীবী প্রাণী, প্রায় ১৯৪ বছর বয়সী আলড্যাবরা প্রজাতির দানব কচ্ছপ জোনাথনের সঙ্গে। এই সফরটি ভারত ও সেশেলসের মধ্যকার এক দশকের দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে এর গুরুত্ব অপরিসীম।
ঐতিহ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতীকী বার্তা
সেশেলসের জাতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনে বসবাসকারী জোনাথনের বয়স প্রায় দুই শতাব্দী ছুঁইছুঁই। এই প্রজাতির গড় আয়ুর চেয়ে অনেক বেশি সময় ধরে বেঁচে থাকা এই কচ্ছপের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সাক্ষাৎকে কেবল একটি সৌজন্যমূলক ভ্রমণ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। মূলত ঐতিহ্য, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণের মতো বিষয়গুলির ক্ষেত্রে এটি দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকারের একটি শক্তিশালী প্রতীকী পদক্ষেপ। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বোটানিক্যাল গার্ডেনে একটি বিশেষ বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।
কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার ও সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন
সেশেলসের জাতীয় দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে অংশ নেওয়া এই সফরের অন্যতম প্রধান কারণ। এই ঐতিহাসিক উদযাপনে ভারতের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল এবং নৌসেনার দু’টি যুদ্ধজাহাজ অংশ নিচ্ছে, যা দুই দেশের সামরিক ও কৌশলগত সুসম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। সফরকালে সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমিনির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
২০১৫ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার সেশেলস সফরে গিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর তাঁর এই পুনরায় সফর দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছে ওয়াইবহাল মহল। এই সফরের সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে ভারত মহাসাগরে ভারতের কৌশলগত অবস্থান যেমন মজবুত হবে, তেমনই পরিবেশগত কূটনীতিতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের পারস্পরিক অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করবে।