শীর্ষ নেতৃত্বের বারণ সত্ত্বেও অব্যাহত ‘ডিমোক্রেসি’! রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতাদের ওপর ডিম-বর্ষণ
কলকাতা: প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে ‘ডিম ছোড়া’ একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়— মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এমন কঠোর বার্তা দেওয়ার পরেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার ঘটনা থামছে না। বৃহস্পতি ও শুক্রবারও রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতাদের অস্বস্তিতে ফেলে এই ‘ডিমোক্রেসি’ বা ডিমের আক্রমণ অব্যাহত ছিল।
কী বলেছিলেন শুভেন্দু-শমীক?
কিছুদিন আগেই নিউটাউনে দলীয় প্রশিক্ষণ শিবিরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, অকারণে ডিম ছোড়া সাধারণ মানুষ পছন্দ করছে না। এর বদলে ডিএ বৃদ্ধি বা কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতিই হবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে সেরা রাজনৈতিক জবাব। একই সুর শোনা গিয়েছিল রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের গলাতেও। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, ডিম ছোড়া কোনও সুস্থ রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হতে পারে না।
কোথায় কোথায় ঘটল ঘটনা?
শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশকে উপেক্ষা করেই রাজ্যের একাধিক জায়গায় জনরোষের শিকার হচ্ছেন তৃণমূল নেতারা:
- আউশগ্রাম: দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত প্রাক্তন ব্লক সভাপতি শেখ আবদুল লালন ও তাঁর ছেলেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁদের লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ে। পরিস্থিতি সামলাতে পুলিশকে ওই নেতাদের মাথায় হেলমেট পরিয়ে নিয়ে যেতে হয়।
- বারাসাত: বৃহস্পতিবার রাতে প্রাক্তন উপ-পুরপ্রধান তাপস দাশগুপ্ত-সহ তিনজন তৃণমূল নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে ডিম ছোড়া হয়।
- কোচবিহার: তুফানগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল ওয়ার্ড সভাপতি সুব্রত দাসের মাথায় রাস্তায় ফেলে একের পর এক ডিম ফাটানো হয়। কাটমানি ও দুর্নীতির অভিযোগে ওই নেতার কান্নার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
- আলিপুরদুয়ার ও ধূপগুড়ি: আদালতে পেশের সময় যুব তৃণমূল নেতা রনি মল্লিককে ডিম ছোড়া হয়। অন্যদিকে, আবাস যোজনার কাটমানির অভিযোগে মঞ্জিলা খাতুনের বাড়ি ডিম হাতে ঘেরাও করেন গ্রামবাসীরা।
পুলিশের হুঁশিয়ারি:
টানা এই ধরনের ঘটনা সামলাতে নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্য পুলিশের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে এই ধরণের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।