উত্তরবঙ্গে আবারও ধসের শঙ্কা, ভাসতে পারে নিচু এলাকা!

দিন কয়েক আগের টানা বৃষ্টির ক্ষত এখনও শুকায়নি উত্তরবঙ্গে। সাময়িকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা গেলেও ফের উত্তরবঙ্গে প্রবল দুর্যোগের অশনি সংকেত দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর জলস্তর দ্রুত বাড়তে পারে এবং পার্বত্য অঞ্চলে নতুন করে ধস নামার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাহাড়ের বাসিন্দা ও পর্যটকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গে আপাতত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা না থাকলেও আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে ঝড়-বৃষ্টির বেগ বাড়তে পারে।
ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমী অক্ষরেখার জোড়া ফলা
আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, এই আকস্মিক দুর্যোগের পেছনে মূলত দুটি আবহাওয়াজনিত কারণ সক্রিয় রয়েছে। উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং মায়ানমার উপকূলে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এর পাশাপাশি, রাজস্থান থেকে ওড়িশা পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমী অক্ষরেখাটি ছত্তিশগড় ও মধ্যপ্রদেশের ওপর দিয়ে সক্রিয় রয়েছে। এই জোড়া প্রভাবের কারণে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে বিপুল পরিমাণ জলীয় বাষ্প প্রবেশ করছে, যা অতি ভারী বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের সম্ভাব্য প্রভাব
এই দুর্যোগের প্রভাবে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলায় ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে তিস্তা, তোর্ষার মতো নদীগুলোর জলস্তর বেড়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হতে পারে। পাহাড়ি রাস্তায় ধস নেমে আবারও শিলিগুড়ি, মিরিক ও দার্জিলিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মালদহ ও দুই দিনাজপুরেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির কমলা ও হলুদ সতর্কতা রয়েছে।
বিপরীত দিকে, দক্ষিণবঙ্গে আপাতত আংশিক মেঘলা আকাশ ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে। কলকাতা-সহ বেশ কিছু জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হলেও সোমবার থেকে পরিস্থিতির বদল ঘটবে। সপ্তাহের শুরুতেই দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলোতে ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে এবং বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, বর্ধমান ও নদীয়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।