আর্তনাদ শুনেও উদ্ধার না করে রিল বানাচ্ছিল জনতা, তারাতলা কাণ্ডে প্রকাশ্যে অমানবিকতার ছবি

আর্তনাদ শুনেও উদ্ধার না করে রিল বানাচ্ছিল জনতা, তারাতলা কাণ্ডে প্রকাশ্যে অমানবিকতার ছবি

তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন বিপর্যয়ের পর প্রায় ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে ফেরা শ্রমিকরা যখন একে একে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরছেন, তখন তাঁদের বয়ানে উঠে আসছে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এবং একইসঙ্গে সমাজের এক চরম অমানবিক রূপ। বুধবার দুপুরের সেই বিপর্যয়ে আটকে পড়া শ্রমিক মানিক চাঁদের অভিজ্ঞতা বর্তমান সমাজের সংবেদনশীলতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়ে বাঁচার জন্য যখন তাঁরা আর্তনাদ করছিলেন, তখন স্থানীয় একাংশ উদ্ধারে এগিয়ে আসার বদলে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ভিডিও বা ‘রিল’ বানাতে ব্যস্ত ছিলেন। পরে অবশ্য কিছু মানুষ এসে তাঁদের টেনে বের করে আনেন এবং সেনাবাহিনীও উদ্ধারকাজে বড় ভূমিকা পালন করে।

নির্মাণকাজে বেনিয়ম ও গাফিলতি

এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে নির্মাণকাজে চূড়ান্ত গাফিলতি এবং অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে তুলে ধরা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া শ্রমিকদের মতে, ভবনের নিচের দিকের কাজ যথাযথভাবে সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই নিয়ম বহির্ভূতভাবে তিনতলার ঢালাইয়ের কাজ চলছিল। এমন অস্বাভাবিক নির্মাণ পদ্ধতি শ্রমিকদের মনে সন্দেহ তৈরি করলেও, পেটের দায়ে ও উপার্জনের বাধ্যবাধকতায় তাঁরা কাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। মূলত এই কাঠামোগত দুর্বলতা ও নির্দেশনার ত্রুটির কারণেই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সম্পূর্ণ অংশটি।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ইতোমধ্যেই এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে প্রশাসন। অভিযুক্ত নির্মাণ সংস্থা এবং আর্কিটেক্টকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে সরকার। নকশায় ঠিক কী ধরনের গলদ ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের অনুরোধে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশেষজ্ঞ দল। এই ঘটনার ফলে শহরে বেআইনি ও ত্রুটিপূর্ণ নির্মাণকাজের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি আগামীতে আরও কড়া হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কর্মক্ষেত্রে অসংগঠিত শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আপৎকালীন উদ্ধারকাজে সাধারণ মানুষের মানবিক দায়িত্ববোধের অভাবের বিষয়টিও আগামী দিনে প্রশাসনিক স্তরে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *