আর নিরাপদ নয় পাটুলি, পরপর দুদিন রাস্তায় হেনস্তার শিকার হয়ে ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য!

আর নিরাপদ নয় পাটুলি, পরপর দুদিন রাস্তায় হেনস্তার শিকার হয়ে ক্ষুব্ধ অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য!

কলকাতার অন্যতম শান্ত এবং নিরাপদ এলাকা হিসেবে পরিচিত পাটুলিতে এবার নারী নিরাপত্তা নিয়ে উঠল বড়সড় প্রশ্ন। প্রকাশ্য দিবালোকে পরপর দুদিন রাস্তায় শারীরিক আক্রমণ ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন টলিউড অভিনেত্রী রূপা ভট্টাচার্য। নিজের পাড়াতেই এমন ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়ে তিনি পাটুলি থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।

পরপর দুদিন ভয়ংকর অভিজ্ঞতা

অভিনেত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তিনি যখন পাটুলি আর ব্লকের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন, তখন কুড়ি বছর বয়সি এক সাইকেল আরোহী যুবক তাঁকে পিছন থেকে অনুসরণ করে এবং শারীরিকভাবে হেনস্তা করার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। আত্মরক্ষার্থে ধাক্কা মারতে গেলে অভিনেত্রীর ডান হাত কেটে যায় এবং অভিযুক্ত দ্রুত পালিয়ে যায়। থানায় অভিযোগ দায়ের করতে গিয়ে তিনি দেখেন, আগের দিনও এক তরুণী ঠিক একইভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন, যা এলাকায় কোনো সিরিয়াল অফেন্ডারের সক্রিয় থাকার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার সন্ধ্যায় পাটুলি টি ব্লকের মাঠের কাছে এক বাইক আরোহী ডেলিভারি বয় তাঁকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছোঁয়ার চেষ্টা করে। রূপা চমকে সরে গেলে ওই ব্যক্তি তাঁকে হিন্দিতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিতে শুরু করে।

নিরাপত্তাহীনতার কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

দীর্ঘ চার বছর ধরে পাটুলির বাসিন্দা রূপা ভট্টাচার্যের দাবি, সম্প্রতি রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বহিরাগতদের আনাগোনার কারণেই এলাকার আইনশৃঙ্খলার এই অবনতি। গত এক মাস ধরে পাটুলির বিভিন্ন জায়গায় বহিরাগত যুবকদের অস্বস্তিকর জটলা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনা নারী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক গভীর ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। একটি নিরাপদ আবাসিক এলাকায় এমন ধারাবাহিক অপরাধ স্থানীয় মহিলাদের মধ্যে যেমন আতঙ্ক তৈরি করছে, তেমনই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে শমীক ভট্টাচার্য ও অগ্নিমিত্রা পালকে ট্যাগ করে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *