হাসপাতালে অমানবিক গাফিলতি, স্যালাইন খুলতে গিয়ে ৩ মাসের শিশুর আঙুল কাটলেন কর্মী!
চাঁচল: হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে মাত্র তিন মাসের একরত্তি। অভিযোগ, স্যালাইনের চ্যানেল খুলতে গিয়ে কাঁচি দিয়ে শিশুর আঙুলই কেটে ফেললেন হাসপাতালের এক অস্থায়ী কর্মী। এই ঘটনায় সোমবার রাতে মালদার চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযুক্ত কর্মীর অদ্ভুত সাফাই, “কাজ করার সময় ঘুম পেয়ে গিয়েছিল!”
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
হরিশ্চন্দ্রপুরের কুশিদা গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান ও নাজমা বিবির তিন মাসের সন্তান জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ২৬ জুন হাসপাতালে ভর্তি হয়। মঙ্গলবার তার ছুটি হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই স্যালাইনের চ্যানেল খোলার সময় ঘটে যায় বিপত্তি। শিশুর পরিবারের অভিযোগ, উজ্জ্বল সাহা নামে ওই অস্থায়ী কর্মী কাঁচি দিয়ে ব্যান্ডেজ কাটার সময় অসাবধানতাবশত শিশুর বুড়ো আঙুলে আঘাত করেন।
অভিযুক্তের সাফাই ও পরিবারের ক্ষোভ:
নিজের চরম গাফিলতি স্বীকার করে অভিযুক্ত কর্মী উজ্জ্বল সাহার দাবি, কাজের চাপে ঘুম পেয়ে গিয়েছিল, সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা। এই মন্তব্যের পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিশুর মা নাজমা বিবি। অভিযোগ, প্রতিবাদ করতে গেলে ওই কর্মী ও তাঁর সঙ্গীরা নাজমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং গায়ে হাত তোলার চেষ্টাও করেন। এরপরই স্থানীয়রা জড়ো হয়ে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু করেন।
কর্তৃপক্ষের কড়া পদক্ষেপ:
হাসপাতাল সুপার সুমিত তালুকদার ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ করে জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। মালদার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক (CMOH) সুদীপ্ত ভাদুড়ীর নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
- অভিযুক্ত অস্থায়ী কর্মীকে অবিলম্বে কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- ওই কর্মীকে নিয়োগকারী সংস্থাকেও বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
- তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে আরও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইতিমধ্যেই শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে চাঁচল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় চিকিৎসা ব্যবস্থায় নিরাপত্তার অভাব ও হাসপাতালের কর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।