এক শিবিরে কেষ্ট-কাজল! দায়ে পড়েই ঋত-শিবিরের আশ্রয়ে বীরভূমের দুই ‘যুযুধান’ নেতা?

এক শিবিরে কেষ্ট-কাজল! দায়ে পড়েই ঋত-শিবিরের আশ্রয়ে বীরভূমের দুই ‘যুযুধান’ নেতা?

বীরভূমের রাজনীতিতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডল এবং কাজল শেখ। যে ঝগড়া মেটাতে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও হিমশিম খেয়েছেন, সেই দুই নেতা এখন একই ছাতার নিচে! রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের পর ক্ষমতার সমীকরণ যেভাবে বদলেছে, তাতে এই দুই যুযুধান নেতার সহাবস্থান রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

নতুন সমীকরণ ও দলবদল: অনুব্রত মণ্ডল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত শিবির ছেড়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। সেখানে আগে থেকেই রয়েছেন কাজল শেখ। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সুবিধা এবং মামলা-মোকদ্দমার হাত থেকে বাঁচতেই এই দলবদল। মমতা ঘনিষ্ঠদের মতে, এই সিদ্ধান্ত নিছকই ব্যক্তিস্বার্থ থেকে অনুপ্রাণিত। বিশেষ করে অনুব্রতর ক্ষেত্রে, তাঁর মেয়ের নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা কাটানোর বিষয়টিও বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

অতীতের তিক্ততা কি মিটবে? অনুব্রত তিহাড় জেলে থাকাকালীন বীরভূমে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন কাজল। জেল থেকে ফেরার পর অনুব্রত নিজের পুরনো জমি আর পুনরুদ্ধার করতে পারেননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুজনকে নিয়ে কোর কমিটি করলেও ঝগড়া থামেনি। এখন প্রশ্ন উঠছে, নতুন শিবিরে কি তারা সত্যিই হাতে হাত মিলিয়ে চলতে পারবেন?

তৃণমূলে ভাঙনের সুর: শুধু কেষ্ট-কাজল নন, রাজ্যের রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন অনেক ‘ঘোষিত শত্রু’ জুটি এখন এক শিবিরে। তৃণমূলের অন্দরেও ভাঙন স্পষ্ট। সুদীপ রাহা, কোহিনুর মজুমদার থেকে শুরু করে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো নেতারাও শিবির বদল করেছেন। একসময় যারা একে অপরের ঘোর বিরোধী ছিলেন, আজ তারা একই রাজনৈতিক ছাতার নিচে অবস্থান করছেন।

নেত্রীর পাশে এখন কারা? তৃণমূলের পুরনো প্রথম সারির নেতাদের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এখন হাতেগোনা কয়েকজনকে দেখা যাচ্ছে—যাদের মধ্যে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং দোলা সেন অন্যতম। নেত্রীর দল ধরে রাখার ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এবং এই অভাবনীয় দলবদল পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে এক গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *