“হৃদয় মমতা-সঙ্গেই”: সিবিআই-লটারি কাণ্ডে ‘বেপাত্তা’ নির্মল ঘোষের প্রত্যাবর্তন

আরজি কর কাণ্ড এবং লটারি কেলেঙ্কারিতে নাম জড়িয়ে যাওয়ার পর থেকেই কার্যত জনসমক্ষ থেকে দূরে ছিলেন জলহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ। সম্প্রতি সিবিআই দফতরে হাজিরা দেওয়া এবং লটারি মামলায় তাঁর ও তাঁর পুত্রের নাম উঠে আসার পর রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়। দীর্ঘ দিন ‘বেপাত্তা’ থাকার পর শনিবার ঋতব্রত তৃণমূলের জেলা কমিটির বৈঠকে আচমকাই দেখা মিলল নির্মল ঘোষের।
বৈঠকের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমাদের হৃদয়-প্রাণ জড়িয়ে আছে।” তবে বাকি বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে দ্রুত বৈঠকের ভেতরে চলে যান তিনি।
প্রেক্ষাপট: ১. আরজি কর মামলা: আরজি করের তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পর ময়নাতদন্তের জন্য দেহ তড়িঘড়ি জলহাটি শ্মশানে নিয়ে যাওয়া এবং দাহ করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে নির্মল ঘোষের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সিবিআই তাঁকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদও করেছে।
২. লটারি জালিয়াতি: দুই বছর পুরনো একটি লটারি মামলায় নির্মল ঘোষ এবং তাঁর পুত্র, তথা জলহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের (পুচি) বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, অস্ত্র দেখিয়ে তাঁর লটারির টিকিট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনার পর থেকেই এলাকায় পিতা-পুত্রের দেখা পাওয়া যাচ্ছিল না।
৩. পারিবারিক অবস্থান: পিতা নির্মল ঘোষ কিছুটা কোণঠাসা হলেও, তাঁর পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ এখনও খাতায়-কলমে কালীঘাটের তৃণমূলের সাথেই যুক্ত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে তিনি যুব সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
বর্তমানে একদিকে লটারি মামলার তদন্ত, অন্যদিকে আরজি কর কাণ্ডে সিবিআইয়ের নজর— সব মিলিয়ে জলহাটির প্রাক্তন বিধায়কের এই ‘রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন’ ঘিরে তুঙ্গে জল্পনা।