‘কর্মসংস্থানের ত্রিশক্তি’তেই বেকারত্ব মুক্তি, রাজ্যে শিল্পায়নে নতুন দিশা দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, ডানকুনি: রাজ্যে দীর্ঘদিনের শিল্পহীনতার জড়তা কাটিয়ে নতুন দিগন্তের সূচনা করতে বদ্ধপরিকর বর্তমান সরকার। শনিবার ডানকুনিতে একটি হোসিয়ারি কারখানার নতুন ইউনিটের উদ্বোধন করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের বেকারত্ব দূরীকরণে এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, শুধুমাত্র সরকারি চাকরির ওপর নির্ভর না করে, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং স্বনির্ভরতাকে গুরুত্ব দিয়েই রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
কর্মসংস্থানের ‘ত্রিশক্তি’ কী? বেকারত্ব মোচনে মুখ্যমন্ত্রী যে ‘ত্রিশক্তি’র কথা উল্লেখ করেছেন, তার মূল স্তম্ভগুলি হলো: ১. মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ: আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ১ লক্ষ সরকারি পদ পূরণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ২. বেসরকারি লগ্নির প্রসার: বাংলায় শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে বেসরকারি শিল্পকারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো। ৩. স্বল্প সুদে ব্যবসায়িক ঋণ: প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা এবং স্বরোজগার যোজনার মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক ঋণ দেওয়া, যার গ্যারান্টার হবে খোদ রাজ্য সরকার। এর মাধ্যমে রাজ্যে হাজার হাজার নতুন ব্যবসায়ী তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
শিল্পায়নে স্বচ্ছতা ও সিঙ্গেল উইন্ডো: শিল্পপতিদের আকৃষ্ট করতে রাজ্যের নীতিতে বড়সড় বদলের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১০০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে স্থানীয় পঞ্চায়েত বা পুরসভার দাদাগিরি এড়াতে সরাসরি ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ ব্যবস্থার মাধ্যমে দ্রুত ছাড়পত্র দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
জমি সমস্যা নিরসনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা ২০১৩ সালের ‘ডাইরেক্ট ল্যান্ড পারচেজ পলিসি’ অনুসরণ করছি। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের মতো পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে, সরকার সরাসরি জমি কিনে শিল্পপতিদের হস্তান্তর করবে। ইতিমধ্যে রেল, এয়ারপোর্ট এবং বিএসএফ-এর জন্য এই পথেই জমি দেওয়া হয়েছে, শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও সেই একই নীতি কার্যকর হবে।”
অতীতে শিল্পক্ষেত্রে যে অস্থিরতা ও সিন্ডিকেট রাজ ছিল, তা ভুলে বর্তমান সরকার যে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখাচ্ছে, শনিবারের এই বার্তা তাকেই আরও জোরালো করল।