“ওদের ৬০ বিধায়ক, আমাদের ৪১% মানুষের সমর্থন!” ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে চ্যালেঞ্জ কল্যাণের

বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের অন্দরে চলা বড়সড় ভাঙনে রীতিমতো অস্বস্তিতে কালীঘাট শিবির। দলের সিংহভাগ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দেওয়ায় ঘাসফুলের অস্তিত্ব যখন সংকটের মুখে, ঠিক সেই সময়েই আগামী ২১শে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশকে সামনে রেখে ফের ময়দানে নেমেছেন মমতা-অভিষেক ঘনিষ্ঠরা।
শনিবার পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কার্যালয়ে আয়োজিত এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের অন্যতম প্রধান মুখ তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, প্রাক্তন বিধায়ক অলক মাঝি, উজ্জ্বল প্রামাণিক, দেবু টুডু, শান্তনু কোনার এবং বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ। আসন্ন ২১শে জুলাইয়ের সমাবেশে বিপুল সংখ্যক কর্মী নিয়ে কলকাতায় হাজির হওয়ার ডাক দেন কল্যাণ।
‘জনভিত্তিহীন’ ঋতব্রত শিবির বৈঠক শেষে নিজের চিরচেনা মেজাজে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ওদের সঙ্গে হয়তো ৬০ জন বিধায়ক থাকতে পারে, কিন্তু বাংলার ৪১ শতাংশ মানুষের সমর্থন এখনও আমাদের সঙ্গেই রয়েছে।” ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন নতুন কমিটিকে গুরুত্বহীন আখ্যা দিয়ে তিনি দাবি করেন, এই নেতাদের কোনো জনভিত্তি নেই। দলত্যাগী সাংসদ শর্মিলা সরকারকে কটাক্ষ করে কল্যাণ বলেন, “সাংসদ হওয়ার পর উনি কি একবারও নিজের এলাকার কর্মীদের সঙ্গে দেখা করেছেন?” এছাড়া, অনুব্রত মণ্ডলের দলবদল ও স্বপন দেবনাথের শিবির বদল নিয়ে ওঠা জল্পনাকেও তিনি এদিন ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।
আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কর্মীদের রাজনৈতিকভাবে হেনস্থা করার জন্য প্রায় ১৪ হাজার মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে আগামী এক বছর প্রতিটি কর্মীর আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইয়ে তিনি পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
একইসঙ্গে রাজ্যের ‘পথের সাথী’ প্রকল্প নিয়ে চলমান তদন্ত প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বলেন, “সবই এখন ওদের আতসকাচের তলায়। যা খুশি করুক।” রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনের ‘গুণ্ডাদমন আইন’ নিয়েও এদিন বিদ্রূপ করতে ছাড়েননি এই প্রবীণ আইনজীবী-সাংসদ। তাঁর কথায়, “সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, যাঁরা একসময় নিজেরা গুণ্ডা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, তাঁরাই এখন রাজ্যে গুণ্ডাদমন নিয়ে বড় বড় কথা বলছেন।”
২১ জুলাইয়ের সমাবেশকে ঘিরে তৃণমূলের এই শক্তি প্রদর্শন শেষ পর্যন্ত বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।