রাজ্যে আসছে নতুন ‘গুণ্ডাদমন আইন’: সোমবার থেকেই কঠোর ব্যবস্থা, জেনে নিন শাস্তির নিয়মাবলি

রাজ্যে আসছে নতুন ‘গুণ্ডাদমন আইন’: সোমবার থেকেই কঠোর ব্যবস্থা, জেনে নিন শাস্তির নিয়মাবলি

পশ্চিমবঙ্গে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণে আনতে রাজ্য সরকার কার্যকর করতে চলেছে নতুন ‘গুণ্ডাদমন আইন’। বিধানসভায় পাশ হওয়ার পর এবার এটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। সোমবার থেকেই রাজ্যের বুকে এই নতুন আইন কার্যকর হতে চলেছে। সম্প্রতি মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইন এবং প্রেভেন্টিভ অ্যারেস্ট আইনের কথা ঘোষণা করেন।

কাদের ‘গুণ্ডা’ বলা হবে? সরকারের নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নিচের বিষয়গুলোকে সমাজবিরোধী বা গুণ্ডামি হিসেবে গণ্য করা হবে:

  • যারা নিয়মিত সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত।
  • যারা সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন বা তাতে অর্থ জোগান দেন।
  • যারা অপরাধমূলক কাজে সরাসরি উৎসাহ দেন বা সাহায্য করেন।
  • যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ অপরাধের তালিকা বা ‘হিস্ট্রি শিট’ রয়েছে।

কী কী শাস্তি ও ব্যবস্থা থাকবে? ১. জামিন-অযোগ্য অপরাধ: এই নতুন আইনের অধীনে অপরাধগুলো ‘গ্রেপ্তারযোগ্য’ এবং ‘জামিন-অযোগ্য’ হিসেবে গণ্য হবে। ২. কারাদণ্ড: আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। ৩. আশ্রয়দাতাদের শাস্তি: কোনো দাগী অপরাধীকে আশ্রয় বা লুকিয়ে রাখলে আশ্রয়দাতারও ২ বছর পর্যন্ত জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ৪. আটকের ক্ষমতা: অপরাধ দমনে পুলিশ সুপার বা তার ওপরের পদমর্যাদার অফিসারদের রিপোর্টের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে আটক করার ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে থাকছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত আটক রাখা সম্ভব।

আটক ব্যক্তিদের অধিকার: সরকার জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে কেন আটক করা হলো তার কারণ ৫ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে হবে। এছাড়া, প্রতিটি ঘটনা পর্যালোচনার জন্য একটি ‘উপদেষ্টা বোর্ড’ থাকবে, যারা ৩ সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।

মুখ্যমন্ত্রী ও প্রশাসনের মতে, এই আইনের ফলে ভবিষ্যতে আর বাস, থানা বা রেললাইন পোড়ানোর মতো ঘটনা ঘটবে না; এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এখন অতীত হতে চলেছে। পুলিশ এখন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা মেনেই আরও কার্যকরভাবে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পারবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *