‘গুন্ডা দমন আইন’ অসাংবিধানিক! স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে মামলা, উদ্বেগে আইনজীবীরা

‘গুন্ডা দমন আইন’ অসাংবিধানিক! স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে মামলা, উদ্বেগে আইনজীবীরা

কলকাতা: রাজ্যে কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই তীব্র আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল বহু চর্চিত ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০২৬’ (গুন্ডা দমন আইন)। এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে এবং এর ওপর অবিলম্বে স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

সোমবার হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেছে। চলতি সপ্তাহেই এর শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মামলাকারী মানবাধিকার কর্মী মিলন মালাকারের পক্ষে আইনজীবী তথা সিপিএম নেতা সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় এই আইনি লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আইনটিকে কেন ‘কালো আইন’ বলছেন সমালোচকরা?

আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের মতে, এই আইনের প্রতিটি পরতে বিপদ লুকিয়ে আছে। প্রধান আপত্তির জায়গাগুলো হলো:

  • মৌলিক অধিকার খর্ব: সংবিধানের ২২ নম্বর অনুচ্ছেদে একজন নাগরিকের আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার যে মৌলিক অধিকার রয়েছে, এই আইনে তাকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়েছে।
  • অস্পষ্ট সংজ্ঞা: আইনে ‘গুন্ডা’ শব্দটির সংজ্ঞা অত্যন্ত অস্পষ্ট। অভিযোগ, এর ফলে প্রশাসন যেকোনো নাগরিককে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানোর ক্ষমতা পেয়ে যাচ্ছে।
  • ঔপনিবেশিক মানসিকতা: আইনজীবীর দাবি, ১৯২৩ সালের ব্রিটিশ আমলের ‘ক্যালকাটা গুন্ডা অ্যাক্ট’-এর আদলেই এই নতুন আইন আনা হয়েছে, যা বর্তমান গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী।
  • সংবিধান ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগ: জাতীয় স্বার্থের দোহাই দিয়ে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনের যে ক্ষমতা রাজ্য পুলিশকে দেওয়া হয়েছে, তা অসাংবিধানিক। কোনো অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগেই কাউকে এক বছর পর্যন্ত আটক রাখার বিষয়টি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছেন মানবাধিকার কর্মীরা।

সরকারের যুক্তি বনাম বাস্তবতা: রাজ্য সরকারের দাবি, রাজ্যে সংগঠিত অপরাধ এবং সিন্ডিকেট রাজ রুখতেই এই কড়া আইনের প্রয়োজন ছিল। এই আইনের আওতায় প্রশাসন কোনো বিচার ছাড়াই সন্দেহভাজনদের এক বছর পর্যন্ত আটক রাখতে পারবে এবং প্রয়োজনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারবে।

অন্যদিকে, মামলাকারীদের বক্তব্য, এই আইন ‘অ্যান্টি-লিবার্টি’ বা স্বাধীনতার বিরোধী। বিধানসভা ও রাজপথের পর এবার এই বিতর্কিত আইনের ভাগ্য নির্ধারিত হতে চলেছে কলকাতা হাইকোর্টের এজলাসে। সব মহলের নজর এখন আদালতের দিকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *