রাজ্যে কার্যকর ‘গুন্ডাদমন আইন’: হার্মাদ ও সিন্ডিকেট রাজের দিন শেষ, হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

রাজ্যে সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হলো বহুল আলোচিত ‘গুন্ডাদমন আইন’ (ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ় অ্যাক্ট, ২০২৬)। এই আইন কার্যকর হওয়া প্রসঙ্গে মুখ খুলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, দীর্ঘদিনের ‘কমিউনিস্ট হার্মাদ’ ও ‘তৃণমূলী গুন্ডা’দের দাপট রুখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
নতুন আইনের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
- প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধি: কোনো ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারেন বা বড় কোনো অপরাধের ছক কষছেন— এমনটা মনে হলে, অপরাধ সংগঠনের আগেই প্রশাসন তাঁকে সর্বোচ্চ ১২ মাস পর্যন্ত বিনা বিচারে আটক রাখতে পারবে।
- এলাকাছাড়ার নির্দেশ: জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার বা ডিআইজি পর্যায়ের আধিকারিকেরা প্রয়োজনে কোনো দাগী অপরাধীকে এক বছরের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকা বা জেলা থেকে বহিষ্কার (Externment) করতে পারবেন।
- সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: সিন্ডিকেট, তোলাবাজি বা অবৈধ উপায়ে অর্জিত যেকোনো সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার আইনি অধিকার পেয়েছে প্রশাসন।
- জামিন অযোগ্য ধারা: আইনটিকে আরও কঠোর করতে এর আওতাধীন সমস্ত অপরাধকে জামিন-অযোগ্য করা হয়েছে। পুলিশ কোনো পরোয়ানা ছাড়াই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারবে।
কাদের বিরুদ্ধে এই আইন? নতুন সংজ্ঞায় সিন্ডিকেটরাজ, তোলাবাজি, গায়ের জোরে জমি-বাড়ি দখল, অবৈধ খনি ও বালিখোরি এবং আন্দোলনের নামে সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মতো বিষয়গুলোকে সমাজবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, বিগত কয়েক দশকের অরাজকতা সমাপ্ত করতেই এই আইন ঢাল হিসেবে কাজ করবে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কঠোর আইনটি অনেকটা কেন্দ্রীয় সরকারের ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’ (NSA)-এর সমতুল্য।