রাজ্যে নয়া শিক্ষানীতি: স্কুলে সোলার প্যানেল থেকে ন্যাপকিন মেশিন, আমূল বদলের পথে রাজ্য শিক্ষা ব্যবস্থা

রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তুলতে অবশেষে ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি (NEP) এবং PM-SHRI স্কিমে যোগ দিল রাজ্য সরকার। সোমবার এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু ও ঘোষণা: মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিমালা মেনে না চলায় অতীতে রাজ্য কেন্দ্রের বরাদ্দ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা মেনে চলায় চলতি আর্থিক বছরে পুরো বরাদ্দ পাওয়া যাবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আধুনিকীকরণ এবং স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
স্কুল শিক্ষার ক্ষেত্রে যে বড় পরিবর্তনগুলো আসছে:
- ৮১ হাজার স্কুলের উন্নয়ন: রাজ্যের ৮১ হাজার স্কুলকে বিশেষ কম্পোনেন্ট গ্রান্টের আওতায় আনা হবে।
- পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা: ধাপে ধাপে সব স্কুলে সোলার প্যানেল বসানো হবে। মিড-ডে মিল রান্নার জন্য পুরোপুরি গ্যাসভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হবে।
- স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা: প্রতিটি স্কুলে আর্সেনিকমুক্ত পানীয় জল, পরিষ্কার শৌচাগার এবং স্বাস্থ্যসম্মত থালা-বাসনে খাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। বিশেষ করে মেয়েদের স্কুলে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন এবং ওয়াটার পিউরিফায়ার বসানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
- প্রাথমিক পর্যায়: বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম জেলা থেকে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। যে স্কুলগুলিতে পাখা নেই, সেখানে দ্রুত পাখা বসানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মিড-ডে মিলে বাড়তি বরাদ্দ: আগামী ১ আগস্ট থেকে প্রাথমিক স্কুলে মিড-ডে মিলের বরাদ্দ ছাত্রপিছু ৬.৭৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করা হচ্ছে। এছাড়া, উন্নত মানের খাবারের জন্য কলকাতার মতো বিভিন্ন জায়গায় মিড-ডে মিলের দায়িত্ব ইস্কনের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
শাসন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা: শিক্ষা আইন সংশোধনের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় বিল এনে স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটির দায়িত্ব অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যা এর আগে অন্য বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কার্যকর রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে সরকারি শিক্ষা পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করাই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।