তারাপীঠে রথযাত্রার বিশেষ প্রস্তুতি, কী কী ব্যবস্থা থাকছে পূর্ণার্থীদের জন্য?

কলকাতা, ১৪ জুলাই ২০২৬: সনাতন ধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব রথযাত্রা। এই পবিত্র দিনে বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। মা তারার বিগ্রহ শুধুমাত্র রথযাত্রার দিনই গর্ভগৃহের বাইরে আসে এবং রথে চড়ে মন্দির চত্বর প্রদক্ষিণ করে। এবছর তারাপীঠের এই রথযাত্রা ঘিরে থাকছে বিশেষ চমক ও বাড়তি সতর্কতা।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তারাপীঠ মন্দির কমিটির সেবাইত সমিতির জন্য ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান ঘোষণা করা হয়েছে। মন্দির কমিটির আহ্বায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় জানান, এই অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে রথযাত্রাকে আরও আকর্ষণীয় ও সুশৃঙ্খল করা হবে।
এবারের বিশেষ আকর্ষণসমূহ:
- সাজসজ্জা: মূল রথের পাশাপাশি মা তারা, শিব এবং ষষ্ঠী মন্দির এলাকা ফুল ও আলোকসজ্জায় সাজিয়ে তোলা হবে। পুরো তারাপীঠ এলাকা রঙিন আলোয় সজ্জিত হবে।
- সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান: রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে থাকবে বিভিন্ন ধরণের বাদ্যযন্ত্রের সুর এবং নৃত্য পরিবেশন।
- জীবন্ত ট্যাবলো: রথের আগে ও পেছনে বশিষ্ঠ মুনি, সাধক বামদেব এবং মা তারার মতো জীবন্ত ট্যাবলো প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।
- ভক্তদের সুবিধা: তীর্থযাত্রীদের জন্য প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা থাকবে। ভিড় সামলানো এবং পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ভক্তদের সুবিধার্থে সুগন্ধি স্প্রে এবং বড় স্ক্রিনে রথযাত্রার লাইভ সম্প্রচারের চিন্তা রয়েছে।
- চিকিৎসা পরিষেবা: প্রচুর মানুষের সমাগম সামলাতে বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প ও অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার সারা বাংলায় রথযাত্রা পালিত হবে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রথযাত্রার ঐতিহ্য ও গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে জানিয়েছেন যে, রাজ্য সরকার মোট ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলায় ‘সেবাকেন্দ্র’ স্থাপন করবে। এর মাধ্যমে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের ন্যূনতম পরিষেবা প্রদান নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগের সাথে যুক্ত রয়েছে জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিগুলো।