৭ বছরের পরকীয়ার জেরে নৃশংস পরিণতি! স্বামীকে কুপিয়ে, মাথা কেটে খুন বাগডোগরায়

দীর্ঘ ৭ বছরের পরকীয়ার সম্পর্ক। আর সেই প্রেমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় নিজের ১০ বছরের বিবাহিত স্বামীকে মাথা কেটে নৃশংসভাবে খুন করল স্ত্রী! ঘটনাটি ঘটেছে বাগডোগরায়। এই হাড়হিম করা খুনের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী, প্রেমিক এবং তাদের তিন সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে বাগডোগরা থানার পুলিশ।
কীভাবে ঘটল এই নৃশংস খুন? পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম ইমাম। পেশায় তিনি একজন তান্ত্রিক ছিলেন এবং বিহারের কিষাণগঞ্জের বাসিন্দা। ইমামের স্ত্রী মমিনা বেগমের সঙ্গে বাগডোগরার বাসিন্দা সুদীপ পালের দীর্ঘ ৭ বছর ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ইমাম। তাঁকে চিরতরে সরিয়ে দিতেই খুনের ছক কষে স্ত্রী ও প্রেমিক।
পরিকল্পনা মাফিক, গত সোমবার বিকেলে ফোন করে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ইমামকে কিষাণগঞ্জ থেকে বাগডোগরায় ডেকে পাঠায় সুদীপ। এরপর মঙ্গলবার রাতে বাগডোগরার হাঁসখোয়া চা বাগানের ৯ নম্বর সেকশনে জীবন্ত অবস্থায় কুপিয়ে খুন করা হয় ইমামকে। পরিচয় আড়াল করতে প্রেমিকের সহযোগিতায় দেহ থেকে মাথা আলাদা করে দেয় স্ত্রী।
কীভাবে প্রকাশ্যে এল ঘটনা? মঙ্গলবার চা বাগানে পাতা তোলার সময় শ্রমিকরা একটি মুণ্ডুহীন দেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। তদন্তে নেমে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে ফাঁসিদেওয়ার মুন্সিবাড়ি এলাকা থেকে নিহতের কাটা মাথাটি উদ্ধার করে।
ধৃত ৫ জন কারা? খুনের কিনারা করে ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতরা হলো:
- মমিনা বেগম: নিহতের স্ত্রী।
- সুদীপ পাল: মমিনার প্রেমিক (বাগডোগরার বাসিন্দা)।
- নিতাই পাল ও বাপি পাল: সুদীপের দুই ভাগ্নে (জলপাইগুড়ির বাসিন্দা)।
- কৌশিক নাথ: ভাগ্নের বন্ধু (জলপাইগুড়ির বাসিন্দা)।
বুধবার ধৃত ৫ জনকেই শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়েছে। পুরো ঘটনার জোরকদমে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।