ইরানে টানা ৬ রাত মিসাইল বৃষ্টি আমেরিকার! ধ্বংসের মুখে বন্দর আব্বাস, তবুও চুক্তিতে মরিয়া তেহরান?

আমেরিকার মুহুর্মুহু মিসাইল হামলায় কার্যত ধ্বংসের মুখে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর বন্দর আব্বাস। এই নিয়ে টানা ৬ রাত ইরানের ওপর ভয়াবহ আক্রমণ চালাল মার্কিন সেনা। তবে এত ধ্বংসলীলার মাঝেও হোয়াইট হাউসের দাবি, তেহরানের সঙ্গে এখনও কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রয়েছে এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছাতে চরম আগ্রহী ইরান।
হামলার মূল লক্ষ্য ও মার্কিন সেনার বয়ান: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের সামরিক শক্তিকে পুরোপুরি দুর্বল করে দেওয়াই এই নতুন সামরিক অভিযানের প্রধান উদ্দেশ্য।
- টার্গেট বন্দর আব্বাস: ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন নিশ্চিত করেছে যে, আমেরিকার মিসাইলগুলি দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র বন্দর আব্বাস এবং সংলগ্ন এলাকায় আছড়ে পড়েছে।
- কেশম দ্বীপেও হামলা: আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থার দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর কাছে কেশম দ্বীপেও হামলা চালিয়েছে আমেরিকা।
কী বলছে হোয়াইট হাউস? নতুন করে হামলার ঠিক আগেই হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন সেনার ভয়াবহ প্রত্যাঘাতের মুখে পড়ে ইরান এখন আমেরিকার সঙ্গে একটি সমঝোতায় আসতে চাইছে। তিনি আরও জানান, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পদক্ষেপের কড়া জবাব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানকে এর চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড়সড় ধাক্কা ও উদ্বেগ:
- বাণিজ্যিক জাহাজে হুমকি: মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, দক্ষিণ উপকূলের সামরিক ঘাঁটিগুলি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে টার্গেট করছে ইরান। এর জবাবেই ওইসব ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত হানছে আমেরিকা।
- তেলের দামে আগুন: এই সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথেই হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ফের বাড়তে শুরু করেছে তেলের দাম, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ।