দিনে পুলিশের উর্দি, রাতে গ্যাংস্টারের হয়ে তোলাবাজি! ২ কোটি টাকার চাঁদাবাজিতে গ্রেপ্তার হেড কনস্টেবল

দিনে পুলিশের উর্দি, রাতে গ্যাংস্টারের হয়ে তোলাবাজি! ২ কোটি টাকার চাঁদাবাজিতে গ্রেপ্তার হেড কনস্টেবল

রক্ষকই যখন ভক্ষক! কুখ্যাত টিল্লু তাজপুরিয়া গ্যাংয়ের সঙ্গে গোপন আঁতাত এবং এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ২ কোটি টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন দিল্লি পুলিশের এক হেড কনস্টেবল। অভিযুক্ত পবন কুমার ওরফে মাক্কি দিল্লি পুলিশের রিজার্ভ ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। খোদ পুলিশের এমন গ্যাংস্টার-যোগ রাজধানীর পুলিশ মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

যেভাবে ফাঁদ পাতা হয়:

  • জমির দাম বাড়াতেই লোভ: ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জিটি কার্নাল রোডের কাছে খাতু শ্যাম মন্দিরের পাশে এক ব্যবসায়ী একটি জমি কেনেন। এই জমি কেনার জন্য পবন কুমারের মাধ্যমে তিনি ৫০ লক্ষ টাকার ঋণ নেন।
  • পরিশোধের পরও ব্ল্যাকমেইল: ব্যবসায়ীর দাবি, এপ্রিলের মধ্যেই তিনি সুদাসলে পুরো টাকা মিটিয়ে দেন। কিন্তু জমিটির দাম হু হু করে বেড়ে ৭ কোটি টাকায় পৌঁছাতেই মতলব বদলায় পবনের।
  • গ্যাংস্টারের নামে তোলাবাজি: পবন হুমকি দিতে শুরু করেন যে, ওই ঋণের টাকা গ্যাংস্টার হিম্মত ওরফে চিকির কাছ থেকে নেওয়া হয়েছিল। জমি বিক্রির মুনাফা থেকে গ্যাংয়ের জন্য ২ কোটি টাকা দাবি করেন তিনি। টাকা দিতে দেরি হলে প্রতিদিন ২ লক্ষ টাকা জরিমানারও হুমকি দেওয়া হয়।

সশস্ত্র হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি: টাকা না পাওয়ায় গত ১ জুন পবন কুমার পাঁচজন সশস্ত্র সহযোগীকে নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে চড়াও হন। ব্যবসায়ীকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের খুনের হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ১৬ জুন অন্য এক যুবকের মাধ্যমে জেলে বন্দি গ্যাংস্টার জিতেন্দ্রর সঙ্গে ব্যবসায়ীর ফোনে কথা বলিয়ে তাঁকে চরম মানসিক চাপে ফেলা হয়।

গ্রেপ্তারের নেপথ্যে সিসিটিভি ও প্রযুক্তি: গত ২৭ জুন নিরুপায় হয়ে ব্যবসায়ী দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থ হন। এরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ, ইলেকট্রনিক প্রমাণ ও কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে পবনের অপরাধের সমস্ত প্রমাণ হাতে পায় তারা।

কোথায় যাচ্ছিল এই টাকা? তদন্তে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, এই চাঁদাবাজির টাকা তিহার জেলে বন্দি গ্যাং সদস্য অমিত ওরফে দাবাং এবং বিদেশে পলাতক হিম্মত ওরফে চিকির আইনি লড়াইয়ের বিশাল খরচ মেটানোর জন্যই তোলা হচ্ছিল। পবনের বিরুদ্ধে হরিয়ানাতেও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *