‘অনুমতি ছাড়া খাওয়ানো যাবে না!’ সোনমকে জোর করে হাসপাতালে তুলতেই কড়া হুঁশিয়ারি স্ত্রীর

‘অনুমতি ছাড়া খাওয়ানো যাবে না!’ সোনমকে জোর করে হাসপাতালে তুলতেই কড়া হুঁশিয়ারি স্ত্রীর

যন্তর মন্তরে অনশনের ২১তম দিনে নাটকীয় মোড়! শনিবার সকালে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করল দিল্লি পুলিশ। আর এরপরেই তাঁর জায়গায় আমরণ অনশনে বসার ঘোষণা করলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। অন্যদিকে, সোনমকে হাসপাতালে নিয়ে যেতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তিনি সাফ জানিয়েছেন, তাঁর অনুমতি ছাড়া সোনমকে জোর করে কোনোভাবেই কিছু খাওয়ানো যাবে না।

যন্তর মন্তরে এবার অনশনে অভিজিৎ

শনিবার সকালে পুলিশ সোনমকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অভিজিৎ দিপকে। তিনি স্পষ্ট জানান, পুলিশের এই পদক্ষেপে আন্দোলন কোনোভাবেই স্তিমিত হবে না। নিজে অনশনে বসে তিনি বলেন, “আজ থেকে আমি অনশন শুরু করলাম। ওরা চরম ভুল করেছে। ২০ তারিখ নির্ধারিত সময়েই সংসদ অভিযান হবে। সকলে যন্তর মন্তরে আসুন, এখান থেকেই লড়াই চলবে।”

স্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

সোনমকে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী জে আংমো কড়া ভাষায় এক্স (X) হ্যান্ডেলে লেখেন, “আমার অনুমতি এবং সোনমের চিকিৎসকদের অনুমোদন ছাড়া ওকে মুখ দিয়ে বা নলের মাধ্যমে জোর করে কোনও তরল খাবার খাওয়ানো যাবে না।” তাঁর দাবি, শুক্রবার সোনমের অবস্থা স্থিতিশীল থাকা সত্ত্বেও তাঁকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যা সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারার সরাসরি পরিপন্থী।

দিল্লি পুলিশের সাফাই

দিল্লি পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, হাইকোর্টের নির্দেশ মেনেই সোনমের চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। তাঁর অবিলম্বে মেডিক্যাল ট্রিটমেন্টের প্রয়োজন ছিল। এক্স পোস্টে পুলিশ আরও দাবি করেছে যে, যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীরা বাধা দিলেও পুলিশ কোনও বলপ্রয়োগ করেনি। নিরাপদভাবেই সোনমকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এলাকাটি শান্তিপূর্ণভাবে খালি করার আর্জি জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতেই সোনম একটি বার্তায় জানিয়েছিলেন যে তাঁর শরীরের ২০ শতাংশ ওজন কমে গিয়েছে, তা সত্ত্বেও তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন এবং ২০ তারিখের সংসদ অভিযানে সকলকে যোগ দেওয়ার ডাক দিয়েছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *