২০ দিনের অনশন! চর্বি গলে শেষ, এবার গলছে পেশি! সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থায় চরম উদ্বেগ

দিল্লি: নিট (NEET) কেলেঙ্কারির প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে গত ২০ দিন ধরে আমরণ অনশনে বসেছেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। একফোঁটা খাবারও গ্রহণ না করায় তাঁর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটছে।
চিকিৎসকদের কড়া নজরদারিতে থাকলেও তাঁর ওজন হু হু করে কমছে এবং হাত-পা অসাড় হয়ে আসছে। এই দীর্ঘ অনশন একজন মানুষের শরীরে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে গুরুতর আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।
কী ঘটছে সোনমের শরীরে? পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকলে মানবদেহ নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে কয়েকটি পর্যায়ে কাজ করে:
- গ্লাইকোজেন ভাঙন: অনশনের শুরুতে শরীর পেশি ও যকৃতে জমানো ‘গ্লাইকোজেন’ ভেঙে শক্তির ঘাটতি মেটায়।
- চর্বি গলন: গ্লাইকোজেন ফুরিয়ে গেলে শরীর বিকল্প হিসেবে চর্বি বা ফ্যাট গলিয়ে শক্তি জোগাড় করে।
- বিপজ্জনক পর্যায় (পেশি ক্ষয়): শরীরের অতিরিক্ত চর্বি শেষ হয়ে গেলে শুরু হয় সবচেয়ে ভয়ের পর্যায়। তখন বেঁচে থাকার তাগিদে শরীর নিজের জীবন্ত পেশি ও প্রোটিন স্তর ভাঙতে বাধ্য হয়। এর ফলে শরীর চরম জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।
- অঙ্গ বিকল হওয়ার শঙ্কা: এক মাস বা তার বেশি সময় অনশন চললে শরীর খাবার না পেয়ে নিজের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকেই খেতে শুরু করে! বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘মাল্টি-অর্গান ফেইলিউর’।
জল খেয়ে কি আর কতদিন বাঁচা সম্ভব? অনশনকারীরা সাধারণত জল বা ওআরএস (ORS) খেয়ে থাকেন, যা শরীরকে ডিহাইড্রেটেড হতে দেয় না। জল শরীরের ভেতরের বর্জ্য বের করতে সাহায্য করলেও, তা পুষ্টি জোগাতে পারে না। দীর্ঘ সময় শুধু জল খেলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটের মারাত্মক ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, যা থেকে আচমকা হার্ট অ্যাটাক বা কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি প্রবল হয়ে ওঠে।
বর্তমানে সোনম ওয়াংচুক চিকিৎসকদের কড়া পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আগেই চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলেই আশা করা হচ্ছে, তবে এই মুহূর্তে তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে গোটা দেশে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।