তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে ১৬৪ কোটি টাকার ‘গরমিল’, জোড়াফুল শিবিরে এবার ইডির হানা

দলের অন্দরে চলা ডামাডোলের মাঝেই এবার চরম অস্বস্তিতে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। শাসকদলের মূল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ১৬৪ কোটি টাকার হিসাব মেলাতে পারছেন না এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) তদন্তকারী আধিকারিকরা। এই বিপুল আর্থিক গরমিলের কারণ জানতে চেয়ে এবার সরাসরি ব্যাঙ্ককে চিঠি দিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- তৃণমূলের ৭টি অ্যাকাউন্টের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩টি ফ্রিজ করেছে ইডি। এবার নজর দলের মূল অ্যাকাউন্টের লেনদেনে।
- ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামক একটি সংস্থাকে দলীয় তহবিল থেকে ১৬০ কোটি টাকা দেওয়ার সন্দেহজনক হদিশ মিলেছে।
- দলের টাকায় কেনা বিমান ও হেলিকপ্টার ভাড়ায় খাটানো হতো খোদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ভিআইপি তৃণমূল নেতাদের কাছেই!
কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন রহস্য: ইডি সূত্রে খবর, তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের টাকা গিয়েছে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর কাছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ১৬০ কোটি টাকা দিয়ে কেনা একটি বিমান ও একটি অগুস্টা হেলিকপ্টার তৃণমূল নেতাদেরই ভাড়া দিত ওই সংস্থাটি। অর্থাৎ, নিজেদের টাকায় কেনা চপার নিজেদেরই ভাড়া দেওয়ার এই চমকপ্রদ চক্রে বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারির গন্ধ পাচ্ছেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা।
অরূপ বিশ্বাসের চিঠি ও দলের কোন্দল: কিছুদিন আগেই দলের কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নিজেকে দাবি করে অরূপ বিশ্বাস এইচডিএফসি (HDFC) ব্যাঙ্কে চিঠি দিয়ে তৃণমূলের সমস্ত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আর্জি জানিয়েছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, দলে চলা বিদ্রোহ এবং ভাঙনের জেরে দলীয় ফান্ডের অপব্যবহার হতে পারে। তাঁর এই দাবিকে সমর্থন করে তদন্তের দাবি তুলেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এমনকী কাটমানির টাকা থাকার সন্দেহও প্রকাশ করেন তিনি। পরবর্তীতে ‘ঋতপন্থী’ ১০ জন তৃণমূল বিধায়ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে বিধাননগর দক্ষিণ থানাতেও আর্জি জানান।
দলের অভ্যন্তরীণ এই টানাপোড়েনের মাঝেই এবার ১৬৪ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তদন্তে নেমে শাসকদলের চাপ আরও অনেকটাই বাড়িয়ে দিল ইডি।