মাধ্যমিক না শুটিং? প্রবল মানসিক চাপেই ঘর ছাড়ে হাওড়ার শুটার দময়ন্তী! অবশেষে মিলল খোঁজ

মাধ্যমিক না শুটিং? প্রবল মানসিক চাপেই ঘর ছাড়ে হাওড়ার শুটার দময়ন্তী! অবশেষে মিলল খোঁজ

টানা ৪৮ ঘণ্টার উৎকণ্ঠার অবসান! অবশেষে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হলো হাওড়ার ১৫ বছরের প্রতিভাবান রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেনকে। শনিবার ভোরে হাওড়ার রামকৃষ্ণপুর গঙ্গার ঘাট এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করেন তার বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন। এই ঘটনায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে দময়ন্তীর পরিবার ও বাংলার ক্রীড়ামহল।

কেন এই হঠকারী সিদ্ধান্ত? দময়ন্তীর বাবার কথায়, মূল কারণ হলো তীব্র মানসিক চাপ ও হতাশা।

  • সামনেই দময়ন্তীর মাধ্যমিক পরীক্ষা, যার জন্য পড়াশোনার বিপুল চাপ রয়েছে।
  • পাশাপাশি, শুটিংয়ের জন্য প্রতিদিন ৮-৯ ঘণ্টা কঠোর অনুশীলন করতে হতো তাকে।
  • পড়াশোনা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে কিশোরী নিজেকে ব্যর্থ ভাবতে শুরু করেছিল। এই উৎকণ্ঠা থেকেই সে বাড়ি ছাড়ে।

নিখোঁজ হওয়ার পর কোথায় ছিল সে?

  • বৃহস্পতিবার সকালে জিনিসপত্র কেনার নাম করে মোবাইল ছাড়াই বাড়ি থেকে বের হয় সে।
  • পুলিশ ও সিসিটিভি ফুটেজ সূত্রে খবর, হাওড়া থেকে লোকাল ট্রেন ধরে সোজা শ্রীরামপুর চলে যায় দময়ন্তী। সেখানে মহেশের রথযাত্রায় রথের দড়িও টানে সে।
  • উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরার পর, শনিবার ভোরে নিজেই হাওড়ায় ফিরে আসে।

উদ্ধার পর্ব ও স্বস্তি শনিবার সকালে এক প্রাতঃভ্রমণকারীর থেকে খবর পেয়ে রামকৃষ্ণপুর ঘাটে ছুটে যান দময়ন্তীর বাবা। দেখেন, লঞ্চঘাটের টিকিট কাউন্টারের এক কোণে বসে কাঁদছে মেয়ে। বাবাকে দেখেই হাউহাউ করে কেঁদে ফেলে সে। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, এই ঘটনার নেপথ্যে কোনও অপরাধমূলক যোগ নেই।

মেয়ে নিরাপদে ফেরায় কোচ তথা অলিম্পিয়ান জয়দীপ কর্মকার স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দময়ন্তীর মা মৌমিতা রায় সেন সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশ ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পরিবার জানিয়েছে, আপাতত পড়াশোনা ও খেলার মাঝে সামঞ্জস্য রেখে দময়ন্তীকে সবরকম মানসিক সহায়তা দেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *