‘রিপোর্টে কারচুপি, অনশন ভাঙেননি সোনম!’ পুলিশের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক স্ত্রী গীতাঞ্জলি
July 18, 20267:28 pm

টানা ২১ দিন অনশনের পর শনিবার যন্তরমন্তর থেকে পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। পুলিশের দাবি ছিল, আদালতের নির্দেশেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু এবার সেই দাবি সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দিয়ে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন সোনমের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো।
গীতাঞ্জলির মূল অভিযোগগুলো কী কী?
- আদালতের নির্দেশের ভুল ব্যাখ্যা: গীতাঞ্জলি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দিল্লি হাইকোর্ট সোনমের স্বাস্থ্যের ওপর নজরদারি চালাতে বলেছিল ঠিকই, কিন্তু কোথাও তাঁকে হাসপাতালে জোর করে ভর্তি বা স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়নি। পুলিশের এই পদক্ষেপ বেআইনি।
- মেডিকেল রিপোর্ট নিয়ে সন্দেহ: সফদরজং হাসপাতালের দেওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, সোনমের শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে ২.৯ হয়ে গিয়েছে। এই রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করে গীতাঞ্জলি বলেন, “গতকালও মাত্রা ৪.৩ ছিল, কয়েক ঘণ্টায় তা এতটা কমতে পারে না।” আসল রিপোর্ট লুকনোর অভিযোগ তুলে তিনি বেসরকারি ল্যাবে রক্ত পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন।
- অনশন ভাঙেননি সোনম: হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সোনমের অনশন ভাঙার যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তা সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন স্ত্রী। তিনি জানান, ইসিজি সহ অন্যান্য রিপোর্ট স্বাভাবিক আছে। সোনম সম্পূর্ণ সজাগ এবং হাসপাতালেও তিনি কেবল নুন-জল খেয়ে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন।
- সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি: পুলিশের অতিসক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ গীতাঞ্জলি সাফ জানান, এরপর থেকে সোনমের চিকিৎসার বিষয়টি পরিবারই দেখবে। তাঁদের বিশ্বস্ত হাসপাতালেই সোনমকে নিয়ে যাওয়া হবে। এ বিষয়ে সরকারের আর নাক গলানোর প্রয়োজন নেই।
আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতি: নিট (NEET) দুর্নীতি ও প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশনে বসেছিলেন সোনম। শনিবার তাঁকে পুলিশ তুলে নিয়ে গেলেও যন্তরমন্তরে আন্দোলন থামেনি। সোনমের পথ অনুসরণ করে শনিবার থেকেই সেখানে আমরণ অনশন শুরু করেছেন সিজেপি (CJP) প্রধান অভিজিৎ দীপকে। তবে ২১ দিন পার হলেও কেন্দ্রের তরফে এখনও কোনো হেলদোল দেখা যায়নি।