একুশের মঞ্চ নিয়ে জটিলতা! হাইকোর্টের শর্ত মানতে তড়িঘড়ি লালবাজারে কুণালরা

কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিড়লা তারামণ্ডলের পাশে সভার অনুমতি মিললেও, ঠিক কীভাবে প্যান্ডেল ও মঞ্চ তৈরি হবে তা নিয়ে ধোঁয়াশা অব্যাহত ছিল। সেই জট কাটাতেই শনিবার বিকেলে সটান লালবাজারে পৌঁছলেন মমতাপন্থী তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়।
লালবাজারে সমন্বয় বৈঠক পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া প্রতিটি নিয়ম তাঁরা অক্ষরে অক্ষরে পালন করছেন। মঞ্চ ঠিক কোথায় হবে এবং কর্মী-সমর্থকরা কোন পথে আসবেন, এই সমস্ত খুঁটিনাটি রূপরেখা চূড়ান্ত করতেই এদিনের এই হাইপ্রোফাইল বৈঠক।
পুলিশের সঙ্গে স্পট ভিজিট পরবর্তীতে যাতে কোনো বিকৃত প্রচার বা আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, তার জন্য পুলিশের সঙ্গে যৌথ পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। কুণাল ঘোষ জানান, পুলিশের উপস্থিতিতেই তারামণ্ডলের পাশের নির্দিষ্ট জায়গাটি পরিদর্শন করে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখা হবে।
কী কী কড়া শর্ত দিয়েছে হাইকোর্ট? বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চ একগুচ্ছ কড়া শর্তে এই সভার অনুমতি দিয়েছে:
- সীমিত জমায়েত: সমাবেশে কোনোভাবেই আড়াই থেকে তিন হাজার মানুষের বেশি জমায়েত করা যাবে না। ভিড় নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব আয়োজকদের।
- নির্দিষ্ট সময়সীমা: সভার জন্য দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
- সচল ট্রাফিক: ব্যস্ত রাস্তায় সভা হলেও যান চলাচলে বা সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনো বাধা সৃষ্টি করা যাবে না। রাস্তা ও ফুটপাত সম্পূর্ণ সচল রাখতে হবে।
আদালতের এই কড়া গাইডলাইনের মধ্যে থেকেই একুশের সভাকে সফল করতে এখন বদ্ধপরিকর মমতাপন্থী শীর্ষ নেতৃত্ব। যৌথ পরিদর্শনের পরেই সভার চূড়ান্ত নকশা সামনে আসবে।