‘টাকা চাইলেই সরাসরি আমাকে ফোন করুন’, আরজি করে সারপ্রাইজ ভিজিটে কড়া বার্তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

কলকাতা: সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্র, জোর করে আয়া চাপিয়ে দেওয়া এবং অপরিচ্ছন্নতার বিরুদ্ধে এবার কড়া অবস্থান নিল রাজ্য প্রশাসন। শনিবার দুপুরে কোনও পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে (RG Kar Medical College) ‘সারপ্রাইজ ভিজিটে’ যান রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। হাসপাতালের পরিকাঠামো, বেহাল দশা ও দালালরাজ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
পরিদর্শনের মূল হাইলাইটস:
- জরুরি বিভাগ থেকে হস্টেল পরিদর্শন: এদিন দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ হাসপাতালে পৌঁছেই সোজা জরুরি বিভাগ, শিশু ও মহিলা ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। পাশাপাশি চিকিৎসক-পড়ুয়াদের হস্টেল চত্বরের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
- দালাল ও আয়া চক্রে কড়া নজর: রোগীর পরিবারের ওপর জোর করে বেসরকারি ‘আয়া’ চাপিয়ে দেওয়ার চেনা প্রবণতা অবিলম্বে বন্ধের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। দালালরা টাকা চাইলে ভয় না পেয়ে সরাসরি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
- সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন: ওষুধ না পাওয়া বা চিকিৎসার নামে বড়সড় হেনস্থার শিকার হলে, সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনে সরাসরি তাঁকে (স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে) ফোন করে অভিযোগ জানানোর কথা বলেছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
সরকারি হাসপাতালে ধারাবাহিক ‘অপারেশন ক্লিন’
সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে স্বাস্থ্য দফতরের এই আকস্মিক পরিদর্শন এখন একটি ধারাবাহিক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।
- বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ: সম্প্রতি এখানে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের সময় বারান্দায় বিড়াল ঘুরতে দেখা যায়। গাফিলতির জেরে হাসপাতালের ১২ জন কর্মীকে শো-কজ করা হয়।
- কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতাল: মাত্র দু’দিন আগেই এখানে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে কোনও সিনিয়র চিকিৎসকের দেখা পাননি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। নোংরা-আবর্জনা নিয়েও তিনি চরম বিস্ময় প্রকাশ করেন।
প্রশাসনিক মহলের মতে, আরজি করের এই পরিদর্শন থেকেই স্পষ্ট যে, সরকারি হাসপাতালে শৃঙ্খলা ও রোগীর সঠিক পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার আর কোনও গাফিলতি বরদাস্ত করবে না।