‘কবর থেকে ডেডবডি তুললেন শুভেন্দু’! বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় কেন পঞ্চমুখ মদন মিত্র?

কলকাতা: দীর্ঘ ১৫ বছর পর ২১ জুলাইয়ের শহিদদের বিচারপ্রক্রিয়ায় নতুন মোড়। ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের গুলিচালনার ঘটনায় গঠিত সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট এতদিন ধামাচাপা পড়েছিল। এবার সেই ‘২১ জুলাইয়ের ফাইল’ খুললেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তাঁর এই পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করলেন খোদ তৃণমূল (ঋতব্রতপন্থী) বিধায়ক মদন মিত্র!
সোমবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেন, ২১ জুলাইয়ের ঘটনায় নিহত বা আহতদের পরিবার যদি নতুন করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করতে চায়, তবে সরকার তাতে পূর্ণ সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি, আর্থিক সাহায্যের বিষয়টিও পুনরায় খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরই বিধানসভায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র। তিনি বলেন, “আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে এই বিধানসভা চির কৃতজ্ঞ থাকবে। কারণ আপনি একটা কবরস্থ ডেড বডিকে মাটির তলা থেকে খুঁড়ে বের করেছেন, যার গন্ধে গোটা পশ্চিমবঙ্গ ভরে যাবে।”
মদন মিত্র আরও প্রশ্ন তোলেন, কেন বিগত ১৫ বছরে চ্যাটার্জি কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি? তিনি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে হোয়াইট পেপার বা শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানিয়ে বলেন, “কার কার কাছে তথ্য রয়েছে তা জনগণ এসে জানাক। আমিও সেসময় সাক্ষ্য দিয়েছিলাম, কিন্তু আমার বিচার কী হলো তা আজও জানতে পারিনি।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও এদিন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন মদন মিত্র। তিনি বলেন, “দলের সতীর্থরা আমাকে বলতে দিচ্ছিলেন না। আমার গায়ের জামা দেখে আমাকে ‘কালো তৃণমূল’ ভাবছিলেন তাঁরা। কিন্তু আমি স্পষ্ট করে দিতে চাই, আমি কালো তৃণমূল নই।”
প্রেক্ষাপট: ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযানে পুলিশের গুলিতে ১৩ জন নিহত হন। ২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার তদন্তে কমিশন গঠন করলেও তার রিপোর্ট আজও প্রকাশ্যে আসেনি। এবার সেই ধামাচাপা পড়া সত্য প্রকাশ্যে আনতে উদ্যোগী হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তাতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।