সিকিমের টানেলে ধস, মাটির নীচে আটকে ২৭ শ্রমিক! প্রাণ বাঁচাতে ময়দানে বাংলার ‘স্পেশাল টিম’

সিকিমের টানেলে ধস, মাটির নীচে আটকে ২৭ শ্রমিক! প্রাণ বাঁচাতে ময়দানে বাংলার ‘স্পেশাল টিম’

সিকিমের নামচি জেলায় নির্মাণাধীন টানেলে ভয়াবহ ধস। টানেলের মুখ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে ভেতরে আটকে পড়েছেন অন্তত ২৭ জন শ্রমিক। শুধু ধস নয়, টানেলের ভেতর থেকে তীব্র বেগে বেরোচ্ছে বিষাক্ত গ্যাস। এই চরম সংকটের মুহূর্তে শ্রমিকদের নিরাপদে বের করে আনতে উদ্ধারকাজে যোগ দিল পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ রেসকিউ টিম।

খবরের মূল হাইলাইটস:

  • ভয়ংকর বিপর্যয়: সোমবার বিকেল ৩টে ৪০ মিনিট নাগাদ নামচির সমারডুং টানেলে (Samardung tunnel) আচমকা ধস নামে। এতে টানেলের ঢোকার মূল রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
  • আটকে ২৭টি প্রাণ: জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ভেতরে ‘প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর ২১ জন এবং ‘এনএইচপিসি’ (NHPC)-র ৬ জন কর্মী আটকে রয়েছেন।
  • উদ্ধারকাজে চরম বাধা: ধসের কারণে ভূগর্ভস্থ শিলাস্তরে আলোড়নের ফলে বিষাক্ত মিথেন গ্যাস বের হতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে, গ্যাস মাস্ক পরে ভেতরে ঢুকেও গ্যাসের দাপটে একাধিক উদ্ধারকারী অসুস্থ ও সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন।

উদ্ধারে নামল বাংলার বিশেষ দল

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে এবং উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করতে প্রতিবেশী রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিশেষ উদ্ধারকারী দলকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। এই দলটির কাছে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তির বিষাক্ত গ্যাস প্রতিরোধক সরঞ্জাম। সংকীর্ণ টানেল এবং চরম অন্ধকারের মধ্যেও বর্তমানে এনডিআরএফ (NDRF), এসডিআরএফ (SDRF) এবং ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি বাংলার টিমও একযোগে কাজ করছে।

নামচির জেলাশাসক আনুফা তামলিং জানিয়েছেন, সিকিমের তিস্তা স্টেজ-৬ হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার প্রজেক্টের অধীনে এই টানেলটি তৈরির দায়িত্বে ছিল প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রশাসনের প্রাথমিক ও একমাত্র লক্ষ্য হলো আটকে পড়া ২৭ জন শ্রমিককে দ্রুত ও নিরাপদে বের করে আনা। উদ্ধারকাজ সম্পন্ন হওয়ার পরেই এই দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *