‘ভালোবাসার টানেই ছুটে এসেছে কর্মীরা’, খণ্ডিত শহিদ দিবসে একুশের মঞ্চে বার্তা মমতার

রাজনৈতিক ভরাডুবির পর বাংলায় আজ এক অভূতপূর্ব ও খণ্ডিত একুশে জুলাই! অভ্যন্তরীণ কোন্দলে কার্যত তিন টুকরো জোড়াফুল শিবির। কলকাতা থেকে দিল্লি— একই দিনে তিন ভিন্ন ধারায় পালিত হচ্ছে এবারের শহিদ সমাবেশ।
মমতার আবেগঘন বার্তা ঐতিহাসিক এই দিনটিতে সোশ্যাল মিডিয়া এক্স (X)-এ শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, “১৯৯৩ সালের এই দিনে যাঁরা মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারিয়েছিলেন, তাঁদের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা। এই দিনটি ‘মা-মাটি-মানুষ’ পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সংকল্পকে আরও সুদৃঢ় করুক। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা জোগায়।” তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই আবেগঘন বার্তার বাইরে বাস্তব রাজনৈতিক ময়দানে এবারের ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা।
তিন ধারায় বিভক্ত এবারের শহিদ দিবস এবারের একুশে জুলাইয়ের সবচেয়ে বড় চমক তৃণমূলের এই বহুমুখী বিভাজন। আজ মূলত ৩টি আলাদা জায়গায় পালিত হচ্ছে এই কর্মসূচি:
- বিড়লা তারামণ্ডলে মমতার সভা: আদালতের নির্দেশে কলকাতার বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মূল সভার নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে রয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র এবং দোলা সেনের মতো হেভিওয়েট নেতারা। সমস্ত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করেও সাধারণ কর্মীরা কেবল ‘ভালোবাসার টানেই’ সভাস্থলে ছুটে এসেছেন বলে দাবি নেত্রীর।
- মেয়ো রোডে বিদ্রোহী শিবির: মূল দল থেকে সরে গিয়ে তৃণমূলেরই একটি বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মেয়ো রোডে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে পৃথক সমাবেশের আয়োজন করেছে।
- দিল্লির রাজঘাটে এনসিপিআই (NCPI): সবচেয়ে বড় চমক দিয়েছেন তৃণমূল ত্যাগী প্রবীণ নেতারা। ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দেওয়া কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শতাব্দী রায়ের মতো সাংসদরা আজ সংসদীয় অধিবেশনের মাঝেই দিল্লির রাজঘাটে গিয়ে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন।
তীব্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক বিপর্যয় ও বহুমুখী লড়াইয়ের আবহে এবারের একুশে জুলাই বাংলার আগামী দিনের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির এক নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।