ভিড়ের লড়াইয়ে কে কাকে টেক্কা দিল? ‘খণ্ডিত’ তৃণমূলের দুই একুশে জুলাইয়ের মেগাফাইট!

ভিড়ের লড়াইয়ে কে কাকে টেক্কা দিল? ‘খণ্ডিত’ তৃণমূলের দুই একুশে জুলাইয়ের মেগাফাইট!

পনেরো বছরের চেনা ছবিটা এবার সম্পূর্ণ উধাও। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে জনসমুদ্র, সুবিশাল মঞ্চ কিংবা তারকাদের মেলা— এবারের একুশে জুলাইয়ে এসব কিছুই দেখা গেল না। তৃণমূল এখন ‘টুকরো টুকরো’। আর তাই এবার নজিরবিহীনভাবে শহরের বুকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে পালিত হলো বিভক্ত তৃণমূলের জোড়া শহিদ সমাবেশ। একদিকে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে মেয়ো রোডে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভিড়ে এগিয়ে কে? মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরত্বের দুই মঞ্চে ভিড় টানার লড়াইয়ে অনেকটাই এগিয়ে মমতাপন্থীরা।

  • মমতার মঞ্চ: বিড়লা তারামণ্ডল চত্বরে ক্যাথিড্রাল রোডের একটি লেন কালো মাথায় ভরে যায়। আগের মতোই মমতার নামে ওঠে জোরদার স্লোগান।
  • ঋতব্রতর মঞ্চ: মেয়ো রোডে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রতর সভা সকালের দিকে প্রায় ফাঁকাই ছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় কিছুটা বাড়ে। দলের প্রতীক এক হওয়ায় অনেক সাধারণ কর্মী বিভ্রান্ত হয়ে দুই সভাতেই ঢুঁ মেরেছেন।

উধাও চেনা মেজাজ আগে একুশে জুলাই মানেই গোটা শহর মুড়ে ফেলা হতো ব্যানার-ফেস্টুনে। এবার হাওড়া, শিয়ালদা স্টেশন থেকে ফেরিঘাট— সর্বত্রই ছবিটা ছিল ম্যাড়ম্যাড়ে। রাস্তায় ত্রিপল টাঙিয়ে ডিম-ভাত রান্নার চিরপরিচিত দৃশ্যও প্রায় চোখে পড়েনি বললেই চলে।

কার মঞ্চে কোন হেভিওয়েট?

  • মমতা শিবির: কীর্তি আজাদ, বাবুল সুপ্রিয়, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, সৌগত রায় থেকে শুরু করে সাগরিকা ঘোষ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • ঋতব্রত শিবির: ফিরহাদ হাকিম, অনুব্রত মণ্ডল, মদন মিত্র, দেবাশিস কুমার, জাভেদ খান এবং আরও অনেকে। কয়েকটি শহিদ পরিবারও এই মঞ্চে উপস্থিত ছিল।

মঞ্চ থেকে কার কী বার্তা?

  • মদন মিত্র (ঋতব্রত শিবির): মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার জন্য একমাসের সময়সীমা বেঁধে দেন। পাশাপাশি অভিষেককে ক্ষমা চাওয়ার জন্য মাত্র ২ ঘণ্টা সময় দেন তিনি।
  • ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়: নির্বাচন কমিশন তাঁদের আসল তৃণমূলের মান্যতা দিয়ে ব্যাঙ্কের টাকা ব্যবহারের অনুমতি দিলে, শহিদ পরিবারগুলিকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
  • মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: পাল্টা কড়া বার্তা দিয়ে মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ঋতব্রত শিবিরের কাউকেই আর দলে ফেরানো হবে না। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, প্রশাসন ও পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁদের সভা বানচালের চেষ্টা করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *