ঠাকুমার শোকে পাগল! জ্বলন্ত বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ঝাঁপ নাতির, শিউরে ওঠার মতো ঘটনা

নবদ্বীপ মহাশ্মশানে মৃতদেহের সৎকার চলাকালীন ঘটে গেল এক হাড়হিম করা ঘটনা। ঠাকুমার মৃত্যুশোক সহ্য করতে না পেরে তাঁর সঙ্গেই জ্বলন্ত বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ঝাঁপ দিলেন খোদ নাতি!
খবরের মূল হাইলাইটস:
- ঘটনার কেন্দ্র: নবদ্বীপ মহাশ্মশান, নদিয়া।
- কী ঘটেছে: ঠাকুমার মৃতদেহ বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ঢোকানোর ঠিক মুহূর্তেই ভিড় ঠেলে চুল্লির ভেতর ঝাঁপ দেন ৩০ বছরের যুবক ইন্দ্রজিৎ বিশ্বাস।
- বর্তমান পরিস্থিতি: শ্মশানকর্মী ও যাত্রীদের তৎপরতায় প্রাণ বাঁচলেও শরীরের বেশ কিছুটা অংশ দগ্ধ। বর্তমানে তিনি নবদ্বীপ স্টেট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে নদিয়ার গেদে সীমান্ত এলাকা থেকে এক বৃদ্ধার মৃতদেহ সৎকারের জন্য নবদ্বীপ মহাশ্মশানে নিয়ে আসা হয়। শ্মশানের নিয়মমাফিক যখন ‘বলো হরি’ ধ্বনি দিয়ে ট্রলিতে করে বৃদ্ধার দেহটি বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ঢোকানো হচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটে চরম বিপত্তি। আচমকাই ভিড় ঠেলে চুল্লির দিকে ছুটে যান বৃদ্ধার নাতি ইন্দ্রজিৎ। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই সোজা ঠাকুমার মৃতদেহের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তিনি।
উদ্ধারকাজ ও পরিবারের বয়ান: এই ভয়ংকর দৃশ্য দেখে রীতিমতো শিউরে ওঠেন উপস্থিত সকলে। তবে শ্মশানকর্মীরা বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে দ্রুত ওই যুবককে চুল্লির মুখ থেকে টেনে বের করে আনেন। চুল্লির প্রবল উত্তাপে তাঁর মুখমণ্ডল ও শরীরের একাংশ ততক্ষণে পুড়ে যায়। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আপাতত তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে খবর।
কিন্তু কেন এমন কাণ্ড ঘটালেন তিনি? পরিবারের এক সদস্য আকাশ বৈদ্য জানিয়েছেন, যুবক ইন্দ্রজিৎ মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ। ঠাকুমা তাঁর অত্যন্ত কাছের মানুষ ছিলেন। প্রিয় ঠাকুমার চিরবিদায় মেনে নিতে না পেরেই তিনি আবেগের বশে এমন আত্মঘাতী পদক্ষেপ নিয়ে ফেলেন।