হাসিনার বিদায়ের পরেও ৯১৫ কোটির রেল-চুক্তি! বাংলাদেশকে বিরাট বার্তা মোদী সরকারের

রাজনৈতিক পালাবদল এবং শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয়ের ঘটনার পরেও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যে ভাটা পড়েনি, এবার সেটাই স্পষ্ট করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। সমস্ত রাজনৈতিক জল্পনা উড়িয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে হওয়া ৯১৫ কোটি টাকার মেগা রেল চুক্তির কাজ পুরোদমে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারত। চুক্তির শর্ত মেনে খুব শীঘ্রই বাংলাদেশের রেলপথে দৌড়বে ভারতের তৈরি অত্যাধুনিক ব্রডগেজ কোচ।
একনজরে মেগা রেল চুক্তির খুঁটিনাটি:
- ২০০ কোচের মেগা প্রজেক্ট: চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে মোট ২০০টি আধুনিক ব্রডগেজ রেলকোচ দিচ্ছে ভারত। পাঞ্জাবের কাপুরথালা রেল কারখানায় এই কোচ তৈরির কাজ এখন জোরকদমে চলছে।
- কবে পৌঁছবে কোচ? প্রাথমিক পর্যায়ে ২০টি অত্যাধুনিক কোচ খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে পাঠানো হবে। চলতি বছরের অগাস্ট থেকে শুরু করে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে বাকি কোচগুলি সরবরাহ করা হবে।
- চুক্তির প্রেক্ষাপট: ২০২৪ সালে তৎকালীন আওয়ামি লিগ সরকারের আমলে ভারতের রেল মন্ত্রকের অধীনস্থ সংস্থা ‘রাইটস’ (RITES)-এর সঙ্গে এই বিপুল টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (EIB)।
ফের চালু হতে পারে মৈত্রী এক্সপ্রেস!
রেলকোচ সরবরাহের পাশাপাশি দুই বাংলার যাত্রীদের জন্য রয়েছে আরও এক বড় সুখবর। রাজনৈতিক ডামাডোলের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া জনপ্রিয় মৈত্রী এক্সপ্রেস (কলকাতা-ঢাকা) ফের চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জানা গিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই দুই দেশের মধ্যে এই ট্রেন পরিষেবা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
কী বার্তা দিল নয়াদিল্লি?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ক্ষমতার হাতবদল হলেও ভারত স্পষ্ট বুঝিয়ে দিল যে প্রতিবেশী দেশের সাধারণ মানুষ এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কই তাদের কাছে সবসময় অগ্রাধিকার পায়। রেল ও যোগাযোগ পরিকাঠামোর মতো কৌশলগত চুক্তিগুলি বজায় রেখে নয়াদিল্লি ঢাকার প্রতি ইতিবাচক ও গঠনমূলক বার্তাই দিল।