‘এসপি-আইসিরা বিজেপির জেলা সভাপতি!’ একুশের মঞ্চ থেকে নবান্ন-লালবাজার অভিযানের কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

‘এসপি-আইসিরা বিজেপির জেলা সভাপতি!’ একুশের মঞ্চ থেকে নবান্ন-লালবাজার অভিযানের কড়া হুঁশিয়ারি মমতার

ক্ষমতা হারানোর পর এটাই তৃণমূলের প্রথম ২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবস। আর বিরোধী আসনে বসে এই ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকেই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলনের দামামা বাজালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সভা বানচালের চেষ্টা, কর্মীদের ওপর হামলা থেকে শুরু করে দলত্যাগী নেতা— প্রতিটি ইস্য়ুতেই এদিন রীতিমতো রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন তিনি। কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে তাঁর হুঙ্কার, “আমরা ইঁদুরের মতো বালিশের খোলে লুকিয়ে থাকি না, সুন্দরবনের বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করি!”

খবরের মূল হাইলাইটস:

  • পুলিশ-প্রশাসনকে তুলোধোনা: বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, “এসপি-রা এখন বিজেপির জেলা সভাপতি, আর আইসি-রা ব্লক সভাপতি হয়ে গিয়েছেন!” রাজ্যে ‘লবডঙ্কার সরকার’ চলছে বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি নির্বাচনের পর ২২ জন তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
  • মাঝরাতে সভা বানচালের ষড়যন্ত্র: সভার শুরুতেই আগের রাতের তাণ্ডব নিয়ে সরব হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, রাত ১০টা নাগাদ ৬০০ জনের একটি বাইক বাহিনী এসে স্টেজ এবং সাউন্ড সিস্টেম তছনছ করে। সাউন্ড কর্মীদের হাত চিরে দেওয়া এবং মালদা থেকে আসা কর্মীদের মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার মতো মারাত্মক অভিযোগও করেছেন তিনি।
  • ভীতু দলত্যাগীদের ‘নো-এন্ট্রি’: কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED), সিবিআই (CBI) বা সিআইডি (CID)-র ভয়ে যাঁরা দল ছেড়েছেন, তাঁদের জন্য তৃণমূলের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার বার্তা দিয়েছেন মমতা। পাশাপাশি, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলিকে তিনি নিছকই ‘ভীতি প্রদর্শন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
  • আগামী দিনের রণকৌশল: গ্রেফতারির ভয়কে তোয়াক্কা না করে মমতা সাফ জানান, গোটা রাজ্যকে জেল বানালেও তিনি পিছপা হবেন না। ফের একবার ‘খেলা হবে’ স্লোগান তুলে রাজ্য সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, এরপর যদি কোনও গন্ডগোল করার চেষ্টা হয়, তবে তৃণমূল সরাসরি নবান্ন, রাইটার্স এবং লালবাজার অভিযান করবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের এই কঠিন সময়ে কর্মীদের চাঙ্গা করতেই রাজপথে নেমে এই বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *