তৃণমূলের ফান্ডের দখল নিয়ে চরমে সংঘাত! ‘আসল’ স্বীকৃতি পেলেই শহিদ পরিবারকে মাসে ১০ হাজার, ঘোষণা ঋতব্রতর
July 22, 202610:14 am
তৃণমূলের ‘আসল’ বনাম ‘নকল’ দ্বন্দ্বে এবার নয়া মাত্রা যোগ করল দলীয় ফান্ডের দখলদারি। মেয়ো রোডে বিদ্রোহী তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মঙ্গলবার বড় ঘোষণা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশন তাঁদের পক্ষে রায় দিলে দলের তহবিল থেকে শহিদ পরিবারগুলিকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, এক ইঞ্চিও জমি ছাড়তে নারাজ কালীঘাট শিবিরের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
খবরের মূল হাইলাইটস:
- ঋতব্রতর মেগা প্রতিশ্রুতি: বিদ্রোহী শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তৃণমূলের ফান্ডে বিপুল পরিমাণ টাকা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন তাঁদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিলে, ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাইয়ের শহিদদের পরিবারের অ্যাকাউন্টে দলের ফান্ড থেকে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য পাঠানো হবে।
- মমতার কড়া বার্তা: তারামণ্ডলের পাশে আয়োজিত কালীঘাট তৃণমূলের শহিদ সমাবেশ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলের প্রতীক এবং তহবিল—কোনওটাই তিনি বিনা যুদ্ধে বিদ্রোহীদের হাতে তুলে দেবেন না। প্রয়োজনে এই লড়াই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।
- কমিশনের রিপোর্ট নিয়ে আক্রমণ: একুশে জুলাই কমিশনের রিপোর্ট প্রসঙ্গে ঋতব্রতর অভিযোগ, প্রভাবশালীদের আড়াল করতেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওই রিপোর্ট ‘ঠান্ডা ঘরে’ পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীও এদিন মমতাকে ‘শহিদদের নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসা’ করার অভিযোগে বিদ্ধ করেছেন।
- কালীঘাট শিবিরের পালটা জবাব: বিদ্রোহী তৃণমূল ও কংগ্রেসের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে কালীঘাট শিবিরের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিরকাল শহিদ পরিবারের পাশে থেকেছেন। কংগ্রেস কখনও তাঁদের খোঁজ নেয়নি। পাশাপাশি ঋতব্রতকে কটাক্ষ করে তৃণমূল নেতাদের দাবি, যে সিপিএমের আমলে ১২ জন নিরীহ কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল, একসময় সেই দলেরই নেতা ছিলেন তিনি।
প্রেক্ষাপট: কারা ‘আসল তৃণমূল’—সেই ফয়সালা এখনও নির্বাচন কমিশনের হাতে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের পার্টি ফান্ডে মোটা অঙ্কের অর্থ রয়েছে। আর সেই বিপুল ফান্ডের দখল নিতেই এখন মরিয়া দুই শিবির।