৩ কোটির রাস্তা গায়েব! বোর্ড ঝুলিয়েই লাপাত্তা ঠিকাদার, বিনপুরে তৃণমূল নেতার ‘কাটমানি’ নিয়ে ধুন্ধুমার

খাতায়-কলমে রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ, অথচ বাস্তবে সামান্য বৃষ্টিতেই তা চলাচলের অযোগ্য! কাজ আসাম্পূর্ণ রেখেই উধাও হয়ে গিয়েছে ঠিকাদার সংস্থা। এমনই চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ঝাড়গ্রামের বিনপুরে। ৩ কোটির বেশি টাকা খরচের এই প্রকল্পে তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ওঠায় শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা।
কী বলছে সরকারি বোর্ড? বিনপুর ২ ব্লকের নারায়ণপুর থেকে ঝাড়খণ্ড সীমানা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ কিলোমিটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি সংস্কারের দায়িত্ব পায় ‘মাইতি কনস্ট্রাকশন’। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অধীনে এই কাজের জন্য বরাদ্দ হয় ৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকারও বেশি। রাস্তার ধারে থাকা সরকারি বোর্ড বলছে, চলতি বছরের ১ এপ্রিল সংস্কারের কাজ শেষ হয়েছে। শুধু তাই নয়, আগামী পাঁচ বছর রাস্তাটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ওই সংস্থার নামেই আরও ৪০ লক্ষ ৪১ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
বাস্তবের বেহাল চিত্র ও স্থানীয়দের ক্ষোভ স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজ সম্পূর্ণ হওয়া তো দূরের কথা, ঠিকাদার সংস্থা চরম গাফিলতি করে পিচের কোনো আস্তরণ না দিয়েই উধাও হয়ে গেছে। অল্প বৃষ্টিতেই রাস্তার ওপর থাকা দুটি কজওয়েতে জল জমে এলাকার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট অভিযোগ, “সরকারি টাকা আত্মসাৎ করার জন্যই মাঝপথে কাজ ফেলে পালিয়েছে ঠিকাদার।”
কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতার ‘কাটমানি’ এই বেহাল রাস্তার ওপর দিয়েই নিয়মিত যাতায়াত করেন তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি চিন্ময় মাহাতো (বুবাই)। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, এই চরম দুর্নীতির নেপথ্যে রয়েছে ওই নেতার কাটমানি নেওয়ার খেলা। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বা ঠিকাদার সংস্থার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, কেউই কোনো প্রতিক্রিয়া দিতে রাজি হননি।
সরব বিজেপি এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ করেছেন বিনপুরের বিজেপি বিধায়ক প্রণত টুডু। কাটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে যত কাজ হয়েছে, সবেতেই এমন গলদ আর দুর্নীতি। কাজগুলো আসামাপ্তই রয়ে গেছে।” পাশাপাশি, বেহাল রাস্তাগুলো দ্রুত সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে তোলার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।