চোখের নিমেষে জলের তোড়ে ভেসে গেল গোটা পরিবার! আসামের বন্যায় হাহাকার, ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রাম

আসামের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। প্রবল বৃষ্টির জেরে হু হু করে বাড়ছে নদীর জলস্তর। আর সেই জলের তোড়েই চোখের নিমেষে ভেসে গেলেন একই পরিবারের পাঁচ জন সদস্য। মঙ্গলবার মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে আসামের চড়াইদেও জেলার তেঙ্গাপুখুরি থানা এলাকার লাকোয়া অভয়পুরি গ্রামে। এই ঘটনার পর প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদ্ধারকাজে চরম গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।
একনজরে মর্মান্তিক এই ঘটনার কিছু তথ্য:
- নিখোঁজ ব্যক্তিরা: রোহিণী দুয়ারা, তাঁর স্ত্রী টুটুমণি, মেয়ে বিদিশা এবং দুই ছেলে বিদ্যুৎ ও বিপ্লব।
- যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা: জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ায় বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়েছিলেন দুয়ারা পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু জলের তোড়ে প্রথমে ভেসে যান রোহিণী, টুটুমণি ও বিদিশা। তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে স্রোতে তলিয়ে যান দুই ছেলেও।
- কাঠগড়ায় প্রশাসন: স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পরেই বন্যা মোকাবিলা বাহিনীর হেল্পলাইনে ফোন করা হয়। জেলাশাসক নেহা যাদব সাহায্যের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনো উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছয়নি।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের দ্রুত উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে কাতর আর্জি জানিয়েছেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু বিপদের মুহূর্তে উদ্ধারকারী দলের এই অনুপস্থিতি সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
আসামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি বিগত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত আসাম। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত ১৬টি জেলার প্রায় ৭৯৪টি গ্রামের ৩ লাখ ৬২ হাজারেরও বেশি মানুষ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে শিবসাগর, চড়াইদেও, বিশ্বনাথ, ডিব্রুগড় এবং গোলাঘাটের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। বহু এলাকায় বাড়িঘরে জল ঢুকে গিয়েছে। সোমবার পর্যন্ত বন্যায় ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।