সব্জি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে দেশের প্রতিনিধি! দারিদ্র্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইতিহাস গড়লেন ঝান্ডু

সব্জি বিক্রেতা থেকে কমনওয়েলথে দেশের প্রতিনিধি! দারিদ্র্যকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইতিহাস গড়লেন ঝান্ডু

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের কমনওয়েলথ গেমস। ৭৪টি দেশের প্রায় তিন হাজার ক্রীড়াবিদের এই লড়াইয়ে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করছেন বিহারের ২৮ বছর বয়সি প্যারা পাওয়ারলিফটার ঝান্ডু কুমার। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ও চরম আর্থিক অনটনকে পেছনে ফেলে তাঁর আন্তর্জাতিক মঞ্চে পৌঁছানোর এই গল্প যে কারও চোখ আর্দ্র করে দেবে।

পোলিও ও পেটের টানে কঠিন লড়াই: বিহারের নালন্দা জেলার হরনৌত গ্রামের ঝান্ডুর শৈশব ছিল চরম সংগ্রামময়। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে পোলিও তাঁর দুই পা অকেজো করে দেয়, যার ফলে ক্রাচই হয়ে ওঠে তাঁর একমাত্র ভরসা। এর ওপরে পরিবার চালাতে ছোটবেলা থেকেই রাস্তায় সব্জি বিক্রি শুরু করেন তিনি। মহামারী চলাকালীন পরিস্থিতি সামলাতে ই-রিকশা চালালেও, শেষ পর্যন্ত চরম আর্থিক অনটনের জেরে সেই ই-রিকশাটিও বিক্রি করতে বাধ্য হন ঝান্ডু।

অ্যাথলেটিক্স ছেড়ে পাওয়ারলিফটিংয়ে বাজিমাত: শুরুতে অ্যাথলেটিক্সে শটপুট, ডিসকাস ও জ্যাভলিন থ্রোয়ে ভাগ্য পরীক্ষা করলেও বিশেষ সাফল্য পাননি তিনি। তবে নিয়মিত শরীরচর্চার সময় তাঁর শারীরিক গঠন দেখে এক ক্রীড়া আধিকারিক তাঁকে পাওয়ারলিফটিংয়ে নামার পরামর্শ দেন। সেই মোড় ঘোরানো পরামর্শের পরই জিমে ঘাম ঝরাতে শুরু করেন ঝান্ডু এবং নিজের অধ্যবসায়ের জোরে জাতীয় স্তর পেরিয়ে সোজা জায়গা করে নেন কমনওয়েলথ গেমসের মঞ্চে। পুরুষদের প্যারা পাওয়ারলিফটিংয়ের হেভিওয়েট বিভাগে এখন দেশের হয়ে পদক জয়ের হাতছানি তাঁর সামনে।

ই-রিকশা চালক থেকে আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট হয়ে ওঠার এই পথচলা প্রমাণ করে দেয় যে, মনের জোর অটুট থাকলে ভাগ্যকেও বদলে দেওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *