রাতের মোমো আবদার মেটাতে না পারায় মর্মান্তিক পরিণতি! স্ত্রীর বেধড়ক মারধর ও কিল-ঘুষিতে প্রাণ হারাল স্বামী

মাঝরাতে মোমো খাওয়ার আবদার ঘিরে এক মর্মান্তিক পারিবারিক বিবাদের জেরে প্রাণ হারালেন ৩২ বছর বয়সি এক যুবক। কলকাতার চিৎপুর থানা এলাকার বাসিন্দা অমিত দাসের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী রেশমি দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঘটনার বিস্তারিত: পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল অমিত ও রেশমির। তাঁদের একটি আট বছরের ছেলেও রয়েছে। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীর নানা রকম আবদার পূরণ না করতে পারলে নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন অমিত।
গত বৃহস্পতিবার নাইট ডিউটিতে যাওয়ার পর, শুক্রবার ভোর রাত দু’টো নাগাদ বাড়ি ফিরে স্ত্রীর কাছে মোমো খাওয়ার আবদার পান অমিত। কিন্তু মাঝরাতে মোমো পাওয়া যাবে না জানিয়ে অমিত তা কিনে দিতে অস্বীকার করায় স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বচসা শুরু হয়। অভিযোগ, সেই সময় ছোট ছেলের সামনেই অমিতকে এলোপাথাড়ি লাথি, কিল ও ঘুষি মারতে শুরু করেন রেশমি।
হাসপাতাল ও আইনি পদক্ষেপ: টানা মারধরের পর হঠাৎই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন অমিত। প্রায় দু’ঘণ্টা তাঁকে ওই অবস্থায় ফেলে রাখার পর প্রতিবেশীদের খবর দেন রেশমি। প্রতিবেশীরা এসে অমিতের মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখেন এবং দ্রুত তাঁকে আর কর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের অভিযোগ, হাসপাতালে পৌঁছানোর পরেই পরিস্থিতি বুঝে পালিয়ে যান অভিযুক্ত স্ত্রী। পরবর্তীতে খবর পেয়ে চিৎপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং তল্লাশি চালিয়ে অভিযুক্ত রেশমি দাসকে তাঁর নিজের বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যুবকের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং অভ্যন্তরীণ অঙ্গহানির তথ্য মিলেছে।