‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না!’ মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ধর্মতলায় তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১১

‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না!’ মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ধর্মতলায় তাণ্ডবের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১১

গত শুক্রবারের ধর্মতলার অশান্তি ও সাংবাদিকদের হেনস্থার ঘটনায় কঠোর পদক্ষেপ করল প্রশাসন। ছাত্র আন্দোলনের নামে চলা ওই তাণ্ডবের তীব্র নিন্দা করে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, দোষ কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঙ্কারের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশি অভিযানে একে একে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ১১ জন অভিযুক্তকে।

পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ধৃত ব্যক্তিরা আদতে কোনো সাধারণ পড়ুয়া বা ছাত্র নন। ঘটনার পরেই তারা রাজ্য ছেড়ে ভিনরাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার ফন্দি আঁটছিল। এর মধ্যে আজাদ ও আফরোজ নামে দুই অভিযুক্ত দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের ওপর অন্ডালের কাছ থেকে পালানোর সময় পুলিশের জালে ধরা পড়ে।

বিধানসভায় নতুন সরকারের আমলে পাশ হওয়া কঠোর ‘গুণ্ডাদমন আইন’ (Anti-Goonda Act)-এর আওতায় এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলে আগেই আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মর্মে ঘটনার পরেই ভিডিও ফুটেজ খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে পুলিশ। এর পরই শুরু হয় জোরদার তল্লাশি ও ধরপাকড়।

এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট ৭টি মামলা রুজু হয়েছে— যার মধ্যে হেয়ার স্ট্রিট থানায় ৬টি এবং এন্টালি থানায় ১টি মামলা রয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, সদ্য পাশ হওয়া গুণ্ডাদমন আইনটি এই প্রথমবার কোনো হাই-প্রোফাইল ঘটনায় প্রয়োগ করল পুলিশ প্রশাসন।

ধৃতদের পরিচয়:

পুলিশের হাতে ধৃত অভিযুক্তরা হলেন— ইমরান খুরশিদ, আরশাদ আলি ওরফে সাজিদ, মহম্মদ মঈনুদ্দিন, মহম্মদ আলমগীর ওরফে রাজু, ইমরান আহমেদ ওরফে গোপী, খালিদ রেজা ওরফে রিংকু, জমির আহমেদ ওরফে মিনকু, মহসিন খান, দীপক ভৌমিক ওরফে ভিকি, মহম্মদ আজাদ এবং মহম্মদ আফরোজ।

উল্লেখ্য, শুক্রবারের ওই অশান্তির পর আহত সাংবাদিকদের দেখতে খোদ হাসপাতালেও ছুটে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া কড়া পদক্ষেপ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় বার্তা দিল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *