শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় যন্তর মন্তরে আন্দোলন প্রত্যাহার সিজেপির! তবে কি লড়াইয়ের সবে শুরু? মুখ খুললেন অভিজিৎ

দীর্ঘ ৩৭ দিনের একটানা লড়াইয়ের পর অবশেষে দিল্লির যন্তর মন্তরে ইতি টানল জেন-জি এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র আন্দোলন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এবং সমস্ত দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণার পরেই আন্দোলন গুটিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে সিজেপি। তবে সাময়িকভাবে এই বিক্ষোভ থামলেও, এটি যে তাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের কেবল একটি প্রাথমিক ধাপ এবং ভবিষ্যতে আরও বড় কোনো ঝড়ের প্রস্তুতি রয়েছে, সেই ইঙ্গিতই স্পষ্ট করে দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপ।
রবিবাসরীয় সকালে অভিজিতের আবেগঘন ভিডিও বার্তা
রবিবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও পোস্ট করেন অভিজিৎ দীপ। অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে করা ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “অনেক দিন পর আজ নিজের ঘরে, নিজের বিছানায় আরাম করে ঘুম ভাঙল। আজ আর কোনো চিন্তা নেই, সন্ধ্যায় নতুন কী আপডেট আসবে বা এরপর কী হবে—সেই প্যানিকটাও আর নেই। গত ৩৭টা দিন আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কেটেছে।” পাশাপাশি, এই দীর্ঘ সংগ্রামে যাঁরা পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং যাঁরা তাঁদের সামর্থ্য নিয়ে সন্দিহান ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান তিনি।
অসুস্থ শরীরেই যন্তর মন্তর ছাড়েন অভিজিৎ
ভিডিওতে অভিজিৎ জানান, টাইফয়েড ও তীব্র জ্বরে আক্রান্ত থাকার কারণে তিনি শনিবার যন্তর মন্তরে উপস্থিত থেকে সশরীরে সকলকে ধন্যবাদ জানাতে পারেননি, তাই দ্রুত বাড়ি ফিরে আসতে বাধ্য হন। একটানা ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে নাছোড়বান্দা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সহযোদ্ধাদের কুর্নিশ জানিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “এটা তো সবে শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির আরও অনেক দূর পথচলা বাকি রয়েছে।”
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা ও দাবি পূরণ
উল্লেখ্য, নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যান দেশের জেন-জি ও পড়ুয়ারা। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি, যাদের পাশে এসে দাঁড়ান দেশের একাধিক বিরোধী নেতা ও বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। লাগাতার তীব্র চাপের মুখে পড়ে অবশেষে শনিবারই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সেই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন। তাঁর জায়গায় প্রহ্লাদ যোশীকে নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
মূলত তিনটি প্রধান দাবি ছিল সিজেপির—শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফা, আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে রুজু হওয়া সমস্ত পুলিশি মামলা প্রত্যাহার এবং প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের জেরে মৃত ছাত্রছাত্রীদের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ। কেন্দ্র সরকার এই দাবিগুলি মেনে নেওয়ায় যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলন তুলে নেওয়ার চূড়ান্ত ঘোষণা করে সিজেপি।