‘বিদেশি মদতে দেশ অশান্ত করার চেষ্টা!’ ধর্মতলার হিংসা নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

‘বিদেশি মদতে দেশ অশান্ত করার চেষ্টা!’ ধর্মতলার হিংসা নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

নিট (NEET) প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের প্রতিবাদে গত শুক্রবার কলকাতার ধর্মতলায় আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে ব্যাপক হিংসা ও তাণ্ডব চালায় একদল দুষ্কৃতী। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে এবার সরাসরি আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার এক বিশেষ বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, ধর্মতলায় তাণ্ডব চালানো ওই দুষ্কৃতীদের সঙ্গে প্রকৃত ছাত্র আন্দোলন বা কোনো রাজনৈতিক দলের দূরদূরান্তের সম্পর্ক নেই। তাঁরা আসলে একদল উগ্রপন্থী ও বিদেশি শক্তি দ্বারা মদতপুষ্ট শক্তি, যাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ভারতকে অশান্ত করা।

ধর্মতলার সংঘর্ষে আহত সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ানোর জোরালো বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সর্বদা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর।

‘বিদেশি শক্তির উস্কানি ও সুপরিকল্পিত প্রতিহিংসা’

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, যারা এই তাণ্ডব চালিয়েছে তারা নিজেদের দায় এড়াতে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিনিয়ত বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁর মতে, এই গোষ্ঠীগুলি সম্পূর্ণভাবে বিদেশি শক্তির ইন্ধনে কাজ করছে এবং তদন্তকারী সংস্থাও সেই দিকটি খতিয়ে দেখছে।

সরকারের একাধিক কঠোর পদক্ষেপের কারণেই এই মৌলবাদী শক্তিগুলি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, বিগত ১০ সপ্তাহে নতুন রাষ্ট্রবাদী সরকার বেশ কিছু কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে—

  • খারিজি মাদ্রাসার রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে তদন্ত।
  • অবৈধ ওবিসি সার্টিফিকেট বাতিল করা।
  • ১৯৫০ সালের পশু হত্যা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।
  • শব্দদূষণ রোধে কড়া বিধিনিষেধ জারি করা।

শুভেন্দুর অভিযোগ, এই সমস্ত প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওই গোষ্ঠীগুলি প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে লাথি মারা বা জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করার মতো দেশবিরোধী কাণ্ড ঘটিয়েছে।

সাংবাদিক সুরক্ষা ও অতীতের তুলনা

অতীতে বিভিন্ন নির্বাচনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পূর্ববর্তী প্রশাসনকে একহাত নেন শুভেন্দু। তিনি বলেন, ২০২৩-এর পঞ্চায়েত ভোট, ২০২২-এর পুরভোট কিংবা আরজি কর আন্দোলনের সময়ও বহু সাংবাদিক রক্তাক্ত হয়েছেন, কিন্তু তখন পুলিশ বা প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তবে এবার চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। আক্রান্ত সাংবাদিকদের সাহস জোগাতে তিনি নিজে এসএসকেএম (PG) হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন এবং তাঁদের উদ্যোগেই আইনি পদক্ষেপ ও মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

ধর্মতলায় ধৃত বেড়ে ১৪, গুন্ডাদমন আইনের প্রয়োগ

শুক্রবার ধর্মতলার ডোরিনা ক্রসিংয়ের রণক্ষেত্র তৈরির পর থেকেই জোরালো পুলিশি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত ১১ জন গ্রেফতার হলেও রবিবার আরও তিনজনকে পাকড়াও করায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪-এ। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে রাজাবাগান, কলকাতা এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এদের ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে হেয়ার স্ট্রিট ও এন্টালি থানায় মোট সাতটি মামলা রুজু করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ‘গুন্ডাদমন আইন’ প্রয়োগ করা হয়েছে। দ্ব্যর্থহীন ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন,

“গতকাল বিধানসভায় যা বলেছি, আজও সেটাই বলছি; এরা ছাত্র নয়, এরা গুন্ডা। আর গুন্ডা দমনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটাই ফাইনাল কথা।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *